শিরোনাম
গুলিস্তানে তৈরি হতো ফোন, লেখা ‘মেড ইন চায়না-ফিনল্যান্ড’ বাংলাদেশকে ২৮৫৪ কোটি টাকা ঋণ দিলো বিশ্বব্যাংক ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়া বন্ধ করুন: পশ্চিমা বিশ্বকে ব্রিটিশ রাজনীতিক টাঙ্গাইলে বাবাকে মেরে মসজিদের মাইকে প্রচার, ছেলে আটক খুলনা-মংলা পোর্ট রেলপথ ডিসেম্বরে চালু হবে : রেলপথ মন্ত্রী আয়মান আল-জাওয়াহিরি: আল-কায়েদা নেতা মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রচার বিবিসির আমেরিকাকে সরাসরি রাশিয়ার ‘প্রধান হুমকি’ বলে ঘোষণা দিল মস্কো যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন আমাদের গচ্ছিত অর্থ বিনা শর্তে অবিলম্বে ফেরত দিন: আমেরিকাকে তালেবান ‘ইসরাইল এখন আর লেবাননে আগ্রাসন চালানোর সাহস পায় না’
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১১:২১ পূর্বাহ্ন

দেশে সেপ্টেম্বরের আগে কাটছে না লোড শেডিং

/ ৪৬ পঠিত
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৮ জুলাই, ২০২২

দেশে বিদ্যুতের লোড শেডিং আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকতে পারে। সেই সময় পর্যন্ত লোড শেডিং নিয়ন্ত্রণে বিদ্যুতের চাহিদা কমাতে চায় সরকার। এ জন্য অফিস-আদালতের সময় কমিয়ে আনার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হোম অফিস (বাসা থেকে কাজ) করার কথাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এসব কথা জানান। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিতরণ সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জরুরি সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা একটা যুদ্ধের মতো। এ যুদ্ধ মোকাবেলায় সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারব। ’ তিনি বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের দিকে ভারত থেকে আমদানির বিদ্যুৎ আসবে। একই সঙ্গে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এই চাহিদা কতটা কমানো যায়, সেই চিন্তা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সাশ্রয়ী হলে হয়তো চাহিদা সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াটে নামিয়ে আনতে পারব। দোকানপাট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্ধ করা, অফিসের সময় কমিয়ে আনা যায় কি না (সকাল ৯টা-বিকেল ৩টা), সেই চিন্তা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিদিন অফিসে না গিয়ে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের কথাও ভাবা হচ্ছে। ’

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা এবং ব্যবহার কম করলে হয়তো লোড শেডিং কম হবে। মসজিদে এসির ব্যবহার কমাতে হবে। বিয়েসহ সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেষ করতে হবে। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, তখন বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসবে।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও এখন লোড শেডিং হচ্ছে উল্লেখ করে তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেন, ‘জাপান, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও লোডশেডিং হচ্ছে। তারাও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে মনোযোগী হচ্ছে। তাদের তুলনায় আমরা অনেক ভালো আছি। তবে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। ’ তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিলেও অনেক উন্নতি হয়েছে। যদি গ্যাসের দাম না বাড়ত, অস্থিরতা তৈরি না হতো, তাহলে এমন পরিস্থিতি হতো না।

জরুরি সভায় আলোচনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, লোড শেডিংয়ের বিষয়ে কিভাবে আগে জানানো যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগে জানানো হলে গ্রাহকরা প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারবে। সেটি জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানাবেন। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে সেটা জানানো কঠিন। তিনি বলেন, ‘এটার জন্য আমাদের ডিপিডিসি একটা অ্যাপ তৈরি করেছে, সেখানে ঢুকলে জানা যাবে কোন এলাকায় কখন, কবে লোড শেডিং হবে। সেটি সপ্তাহখানেকের মধ্যেই জানানো হবে। মাঠ পর্যায়ে যাঁরা আছেন, তাঁরা সেটি বাস্তবায়ন করবেন। তাঁদের প্রয়োজনে আরো শক্তিশালী করা হবে, যাতে ঘাটতিটা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারি। ’

তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী আরো বলেন, ‘চলমান এই সংকট কাটাতে পুরনো গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে কী পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ ও গ্যাসলাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য আমরা আরো শক্ত অবস্থানে যাব। ’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মাহবুব হোসেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসানসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সারা দেশে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার, শপিং মল, দোকানপাট, অফিস ও বাসাবাড়িতে আলোকসজ্জা না করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আলোকসজ্জা না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

বেশ কিছুদিন ধরে সারা দেশেই লোড শেডিং হচ্ছে। শহরের তুলনায় গ্রামের দিকে লোড শেডিং বেশি হচ্ছে। গ্যাসসংকটের কারণে বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গত মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে স্পট মার্কেট (খোলাবাজার) থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে প্রতি ইউনিট (এমএমবিটিইউ) খরচ হয়েছিল প্রায় ২৫ ডলার। সেটি এখন প্রায় ৪০ ডলার। এ কারণেই সরকার স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ রেখেছে। এখন চুক্তিভিত্তিক এলএনজি ও দেশীয় গ্যাস থেকেই চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে গ্যাসসংকটে বেশ কিছু গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ