শিরোনাম
আল্লামা শফীর ১৩ দফা বাস্তবায়নে পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে হেফাজত সরকারবিরোধী আন্দোলন : বিএনপি নেতাকর্মীরা চাঙা তিন কারণে নারায়ণগঞ্জে আবারো গলাকাটা লাশ উদ্ধার গুলিস্তানে তৈরি হতো ফোন, লেখা ‘মেড ইন চায়না-ফিনল্যান্ড’ বাংলাদেশকে ২৮৫৪ কোটি টাকা ঋণ দিলো বিশ্বব্যাংক ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়া বন্ধ করুন: পশ্চিমা বিশ্বকে ব্রিটিশ রাজনীতিক টাঙ্গাইলে বাবাকে মেরে মসজিদের মাইকে প্রচার, ছেলে আটক খুলনা-মংলা পোর্ট রেলপথ ডিসেম্বরে চালু হবে : রেলপথ মন্ত্রী আয়মান আল-জাওয়াহিরি: আল-কায়েদা নেতা মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রচার বিবিসির আমেরিকাকে সরাসরি রাশিয়ার ‘প্রধান হুমকি’ বলে ঘোষণা দিল মস্কো
শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন

বাড়ি পেল আরও ৩২৯০৪ পরিবার সবচেয়ে ভালো লাগে ঘর পাওয়া মানুষের হাসি: প্রধানমন্ত্রী

শাহরিয়ার কবির / ৫৯ পঠিত
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার সবচেয়ে ভালো লাগে যখন দেখি, একজন মানুষ ঘর পাওয়ার পর তার মুখে হাসি। জাতির পিতা তো দুঃখী মানুষের মুখেই হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন।

সব মানুষ যেন মানুষের মতো বাঁচতে পারে, সুন্দর জীবন পেতে পারে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সেজন্য এই কাজটি আমরা করব। যাতে বাংলাদেশ ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত হিসাবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলতে পারে। এজন্য তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের দুঃখী মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের মাঝে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় ধাপে আরও ৩২ হাজার ৯০৪ পরিবারকে দুই শতক জমিতে টিনশেড আধা-পাকা ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন।

গণভবন থেকে দেশের চারটি উলজেলায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব মানুষের মাঝে উপহারের বাড়িসহ ঘর দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বারবার মনে পড়ছে আমার বাবার কথা।

তিনি শুধু ভাবতেন, কীভাবে দেশের মানুষ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান পাবে। কীভাবে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। জাতির পিতার পথ ধরে আমরা মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছি। এটা দেখে নিশ্চয়ই জাতির পিতার আত্মা শান্তি পাবে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা সবসময় বলতেন, ‘আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে, এই হচ্ছে আমার স্বপ্ন।’

জাতির পিতা স্বাধীনতার পর দেশের ভূমিহীন-গৃহহীন, ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি সংবিধানের ১৫(ক) অনুচ্ছেদে দেশের প্রতিটি নাগরিকের বাসস্থান পাওয়ার অধিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমিও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছি। কুষ্ঠ রোগী, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, চা শ্রমিক, ছিন্নমূলসহ সমাজের প্রতিটি অবহেলিত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বসস্থানের ব্যবস্থা করছি।

এটি জাতির পিতার আদর্শের আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীরও দায়িত্ব। শেখ হাসিনা বলেন, সারা দেশে ৮ লাখের উপর মানুষ পেয়েছি, যারা ছিন্নমূল। আমরা প্রতিটি মানুষকে ঘরবাড়ি করে দেব।

শুধু খাস জমি নয়, জমি কিনেও ঘর করে দিচ্ছি বিনামূল্যে। জানি না পৃথিবীর কেউ এ উদ্যোগ নিয়েছে কিনা। আমরা দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য ঘরবাড়ি নিশ্চিত করব।

বেলা ১১টায় অনুষ্ঠানে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

অনুষ্ঠানে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ওপর নির্মিত ভিডিও চিত্র ‘বদলে যাওয়ার গল্প’ প্রদর্শন করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপহার হিসাবে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কাজের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিভিন্ন উপজেলা প্রান্তে উপস্থিত মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপকারভোগীদের মাঝে জমির দলিল, নামজারি খতিয়ান ও গৃহের সনদ হস্তান্তর করেন। সারা দেশে ৪৯২ উপজেলায় একযোগে ঘর হস্তান্তর করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের আজ ঠিকানা করে দিচ্ছি তাদের এই ঘর ও জমি পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আমার বিশেষ উপহার। যারা গৃহ ও জমি পাচ্ছেন তাদের স্বাবলম্বী হতে হবে। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় শাক-সবজি চাষ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা যখন আশ্রয়ণ প্রকল্প শুরু করি, প্রথমে আমরা ব্যারাক হাউজ নির্মাণের মাধ্যমে পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করি এবং পরে ভূমিহীন-গৃহহীনকে খাসজমি ও গৃহনির্মাণ কার্যক্রম চালু করি।

আমি খাসজমি বণ্টন নীতিমালাও করে দিয়েছিলাম। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে আশ্রয়ণ প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছিল।

আশ্রয়ণ প্রকল্প শুরু হওয়ার পর হতে এপ্রিল ২০২২ পর্যন্ত মোট ৫ লাখ ৭ হাজার ২৪৪টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ৭ হাজার ৮৪০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। পুনর্বাসিত মানুষের সংখ্যা ৩৫ লাখ ৪০ হাজার ১৫।

গৃহ নির্মাণ কর্মসূচিতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। দলীয় নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, আপনারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে চলবেন।
দুঃখী, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন-এটাই হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। একটা মানুষকে যদি একটু আশ্রয় দেওয়া যায়, তার মুখে হাসি ফোটানো যায়, তাহলে এর চেয়ে বড় পাওয়া একজন রাজনীতিবিদের কাছে আর কিছু হতে পারে না। এটাই তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হওয়া উচিত।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। কিছু মানুষের এসব উন্নয়ন সহ্য হচ্ছে না। তারা চায় দেশ গরিব থাকুক। এতে বিদেশ থেকে সাহায্য এনে নিজেদের বিত্তশালী করবে। বিদেশি প্রভুদের খুশি করাই এদের কাজ।

কোনো ভালো কাজই তাদের পছন্দ হয় না। এরা মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে শুধু সমালোচনা করবে এবং বিদেশে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করবে। আওয়ামী লীগ যেন তাদের শত্রু। আমি দেশ শাসন করব, প্রধানমন্ত্রী হব-এটা অনেকেই চায় না।

তাই এত উন্নয়নেও তাদের গাত্রদাহ। এসব মোকাবিলা করেই পথ চলছি। দেশের উন্নয়ন করছি। যতদিন বেঁচে থাকব দেশের মঙ্গলে নিয়োজিত থাকব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই, অশুভ শক্তির কাছে কোনদিন মাথানত করবে না। আমরা বিজয়ী জাতি। কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে যুদ্ধাপরাধীদের ভোটের অধিকার ছিল না। তাদের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে। তাদের মুক্তি দিয়ে সেই বিচারের হাত থেকে রক্ষা করে জিয়াউর রহমান।

এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ জন মেধাবী ছাত্রনেতাকে খুন করে সেই সাজাপ্রাপ্ত খুনিকেও জিয়াউর রহমান মুক্তি দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়, অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যত যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী তাদেরই ক্ষমতায় বসিয়ে ছিল জিয়াউর রহমান।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতাকে যারা ব্যর্থ করতে চেয়েছিল, তারা চাইবে না বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রন্তে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রথমে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের পোড়াদিয়া বালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে যুক্ত হন।

সেখানে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। এ সময় নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে উপকারভোগী স্বামী পরিত্যক্ত সামিরন আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি আমার কাছে পরশ পাথরের মতো।

আপনার ছোঁয়ায় আমার জীবন বদলে গেছে। আরেক উপকারভোগী রুশা রানী বলেন, আমাদের জায়গা-জমি কিছু ছিল না। আপনি তা করে দিয়েছেন। কোনোদিন ভাবতে পারিনি নিজের ঘর হবে।

বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের খাজুরতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পে আয়োজিত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান। এ জেলায় যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বরগুনা অবহেলিত এলাকা ছিল।

আমরা ক্ষমতায় আসার পরে এ জেলার উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। পরে উপকারভোগী তৃতীয় লিঙ্গের শিমু হিজড়া কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমার জীবনে এর চেয়ে আনন্দের ঈদ আর কোনোদিন আসেনি।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ।

এখানে ঘর পাওয়া আরেক উপকারভোগীর কন্যা কলেজছাত্রী আজিজা সুলতানা স্মৃতি নিজের প্রতিক্রিয়া জানতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বাবা নেই। আগে খুব কষ্ট করতে হতো। এখন নিজেদের বাড়ি হয়েছে। আমার জীবনে এমন খুশির ঈদ আর আগে আসেনি।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের আনোয়ারার বারখাইন ইউনিয়নের হাজিগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। এখানে সঞ্চালনা করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। এখানে ঘর পাওয়া জেলে ইয়ার মোহাম্মদ বলেন, আমার কিছু ছিল না।

বাবা-মা আমাকে আশ্রয়ও দিতে পারেনি। আপনি আমাকে সব দিয়েছেন। ২০ লাখ টাকার মালিক বানিয়ে দিয়েছেন। এখন খুব ভালো আছি। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা ভালো থাকুন। আমি আপনাদের ঈদের শুভেচ্ছা জানাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ