রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন

মামুনুল হকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ২ মামলার আবেদন!

/ ৪১১ পঠিত
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেয়ায় খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগ এনে দুটি মামলার আবেদন করা হয়েছে।

এর মধ্যে একটি মামলার আবেদনে মামুনুলের সঙ্গে আরও আসামি করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীমকে।

অন্য মামলার আবেদনে শুধু মামুনুল হককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সোমবার সকালে ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে প্রথম মামলাটির আবেদন করেন।

একই আদালতে দ্বিতীয় আবেদনটি করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর মালেক।

আমিনুলের মামলার আর্জিতে দণ্ডবিধির ১২০(খ) (১)/১২৪ (ক)/ ৫০৫ (ক) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, ইসলামকে ‘ঢাল হিসেবে ব্যবহার’ করে আসামিরা ধর্মের ‘আজগুবি’ ব্যাখ্যা দিয়ে ‘বিদ্বেষপূর্ণ, কাল্পনিক, উত্তেজনাকর ও উসকানিমূলক’ বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা বাঙালি মুসলমান সমাজের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও সংবিধান সম্পর্কে ‘বিদ্বেষ সৃষ্টি করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক’ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন।

মশিউর মালেকের মামলার আর্জিতে দণ্ডবিধির ১২০ (খ)/১৫৩/১২৪ (ক)/ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, মামুনুল হক ঢাকার বিএমএ মিলনায়তনে এক আলোচনাসভায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ‘ভেঙে ফেলার হুমকি দেন’, যা দেশ ও সরকারের স্থিতিশীলতাকে ‘হুমকির মুখে’ ফেলে দিয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, ১৩ নভেম্বর খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা মামুনুল হক ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য তৈরির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সরকারকে হুশিয়ার করে বলেছিলেন, ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে না দাঁড়ালে তিনি আরেকটি শাপলা চত্বরের ঘটনা ঘটাবেন এবং ওই ভাস্কর্য ছুড়ে ফেলবেন। অন্যদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির জুনাইদ বাবুনগরী ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মাহফিলে বলেন, কোনো ভাস্কর্য তৈরি হলে তা টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেয়া হবে। তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়ে আসছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, তাদের ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের রেশ ধরে তাদের অনুসারীরা গত ৪ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধান স্বীকৃত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন ভাস্কর্যের ডান হাত ও পুরো মুখমণ্ডল এবং হাতের অংশবিশেষ ভেঙে ফেলে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ