শিরোনাম
মসজিদে প্রবেশে সরকারের নতুন নির্দেশনা – ভারতে শাতেমে রাসূলের উচিত শিক্ষা দিয়েছেন নবী প্রেমিক দুই মুসলিম যুবক! ‘দা কাশ্মীর ফাইলস’ যেভাবে মুসলিমদের জন্য ভারতের ভূমিকে সঙ্কুচিত করে দিয়েছে ইউক্রেনে বিপণী কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় : হতাহত বেড়ে ৫০ তুরস্কে সমকামী কর্মীদের ‘প্রাইড মার্চ’ আটকাতে গ্রেফতার ২০০ ইরান-ইসরায়েল ছায়াযুদ্ধ কি সরাসরি বাস্তব যুদ্ধে রূপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার বাতিল কেন সৌদি যুবরাজের ঘনিষ্ঠ হতে উদগ্রীব এরদোগান? ইসরাইল, আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত মিলে ইসলাম বিদ্বেষীদের নতুন জোট গঠন কেনিয়ার লামু জেলা এখন সম্পূর্ণ আল-কায়েদার নিয়ন্ত্রণে
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন

সিরিয়ার শরণার্থী সংকট; পরিস্থিতি এখন কেমন?

/ ২৮১ পঠিত
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০

ভিডিও কনফারেন্সে ভ্লাদিমির পুতিন ও বাশার আল আসাদ

সিরিয়ার শরণর্থীদের এবার দেশে ফেরার আহ্বান জানালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট  বাশার আল আসাদ। গতকাল রাশিয়ার প্রেসিডেন্টর সঙ্গে একটি ভিডিও কনফারেন্সে দুই নেতা এ আহ্বান জানান। তাদের ভাষ্য, সিরিয়ায় এখন মোটামুটি শান্তি বিরাজ করছে। কনফারেন্সে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, এখন সিরিয়ার লাখ লাখ শরণার্থীদের দেশে ফিরে আসা উচিত। দেশে ফিরে এসে দেশকে নতুন করে গড়ে তোলা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, এখন আরব অঞ্চলটির বেশিরভাগ অংশে আপেক্ষিক অর্থে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। 

রাশিয়ার তত্ত্বাবধানে সিরিয়ার শরণার্থী সংকট নিয়ে আগামী বুধবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে একটি সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এ আয়োজনের প্রস্তুতি পর্বের অংশ হিসেবে এ ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হল বলে মনে করা হচ্ছে। ভিডিও আলোচনায় উভয় নেতা সিরিয়ায় ক্রিয়াশীল সকল বিদ্রোহীদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করেন। এদিকে, রাশিয়ার এই আয়োজনে কোন কোন আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী অংশ নিচ্ছে তা এখনও নিশ্চিত নয়।

এমনকি সিরিয়ার প্রতিবেশী তুরস্ক যারা সিরিয় শরণার্থীদের একটা অংশের আশ্রয়দাতা তারাও এতে যোগ দেবে কি না তা নিশ্চিত নয়। তুরস্ক দেশটির একটি অঞ্চলে সেনা মোতায়েন করে বিদ্রোহীদের একটি অংশকে মদদ দিচ্ছে  বলে আসাদ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। এ কারণে তুরস্কের প্রতি আসাদ কর্তৃপক্ষের বৈরিতাও স্পষ্ট। কাজেই এ সম্মেলনে তুরস্কের অংশগ্রহণও সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। আসাদ কর্তৃপক্ষ ও রাশিয়ার এমন আয়োজনকে কেন্দ্র করে আরেক ধাপ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শরণার্থী বিষয়ক এ কর্মসূচিকে কোনো ধরনের স্বীকৃতি দেয়া হয়নি জাতিসংঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর এ আয়োজনকে বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সিরিয় শরণার্থীদের আরেক অংশীদার লেবাননের একজন প্রতিনিধি এতে উপস্থিত থাকার কথা জানা গেছে।

ইতিমধ্যে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ৫ লাখের ওপর মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর পাশাপাশি ১০ লাখেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে এবং ৫৬ লাখ সিরিয় জনগোষ্ঠী শরণার্থী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। আরও ৬০ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় দশকব্যাপী এ সংঘাতে।   

মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় শরণার্থী সমস্যায় জর্জড়িত সিরিয়া। ইউরোপ ও আশেপাশের দেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুল সংখ্যক মানুষ শরণার্থী হয়ে জীবন যাপন করছে। আরব বসন্তের পর মধ্যপ্রাচ্যে স্বৈরশাসকেদের বিরুদ্ধে সৃষ্ট গণজোয়ারের পর থেকে ক্ষমতা আকড়ে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। আর তাকে সমর্থন করছেন পরাশক্তি রাশিয়া। সিরিয়া যুদ্ধে রাশিয়া সরাসরি যোগ দেয় ২০১৫ সালে। যুদ্ধে যোগ দিয়ে আসাদ সরকারের হাতছাড়া হওয়া অনেক অঞ্চলে দখল পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে বেশ জোরালো ভূমিকা রাখেন রাশিয়া। এর মধ্যে দীর্ঘ সময়ের এই যুদ্ধে অনেকগুলো পক্ষ তৈরি হয়েছে। ধীরে ধীরে বিভিন্ন পক্ষ নিয়ে পরোক্ষ যুদ্ধে যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ইরান। 

এখন বাশার আল আসাদ ও ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন সিরিয়াতে আপেক্ষিক অর্থে শান্তি বিরাজ করছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তা বলে না। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ইদলিব প্রদেশ এখনও বিদ্রোহীদের দখলে। আবার দেশের পূর্বাঞ্চলে কুর্দি যোদ্ধারা এখনও  লড়াই করে যাচ্ছে। এই কুর্দি যোদ্ধাদের সমর্থন দিয়ে আসছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এখানে ক্রিয়াশীল শিয়া যোদ্ধাদের মদদ দিচ্ছে তুরস্ক। তবে শিয়া যোদ্ধারা শিয়া অনুসারী আসাদের পক্ষেই লড়ে যাচ্ছে।

আবার এ যুদ্ধে সুন্নি যোদ্ধাদের মদদ দিচ্ছে সৌদি আরব যারা চায় এখানে ইরানের প্রভাব হ্রাস করতে। কিছুদিন আগেও এ অঞ্চলে আইএসে যোদ্ধাদের প্রভাব ছিল প্রকট কিন্তু সেই প্রভাব অনেকাংশে কমে এসেছে এখন। মোটকথা সিরিয়িার যুদ্ধ এখন দুই শিবিরের লড়াই নয়। এটি এখন একটি বহুপাক্ষিক যুদ্ধক্ষেত্র।     

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এখানকার আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বেশ অগ্রসর হওয়ার দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু সংস্থাটির এ ধরনের পদক্ষেপ ফলপ্রসূ হয়নি দামেস্কের নেতিবাচক ভূমিকার কারণে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, দামেস্ক কিংবা মস্কো যতই বলুক সিরিয়া এখন নিরাপদ আসলে তা সঠিক নয়। দেশটিতে শরণার্থীদের গণহারে প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি বলে জানা গেছে। অথচ পুতিন ভিডিও কনফারেন্সে দাবি করেছেন, সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের শিকড় উপরে ফেলা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের সেখানে দ্রুত বসবাস শুরু করা উচিত।  সূত্র: এপি। 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ