শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০৯:৩২ অপরাহ্ন

প্রিয় মা……..!!!

/ ৪০৫ পঠিত
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০

খালিদ সাইফুল্লাহ

পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে প্রিয় নামটি হলো “মা”।সন্তানের প্রতি মা জননীর ভালোবাসা অসীম। যার ভালোবাসায় তিল পরিমাণ স্বার্থ নেই। নিঃস্বার্থ ভালোবাসার অপর নাম হলো “মা”।

একজন সন্তানের শৈশব, কৈশোর,যৌবন পেরিয়ে বৃদ্ধ এই সবগুলো ধাপ পদার্পনের পেছনে তার প্রতি সর্বাধিক যত্নবান হলো একজন নিষ্ঠাবান “মা”।
একজন মায়ের প্রেম -ভালোবাসা,আদর- সোহাগ, মায়া-মমতা, অভিমান- অভিযোগ এই সবগুলোর মাঝে লুকিয়ে থাকে আদর্শবান সন্তান গঠন করা।প্রতিটি মা বাবাই চান তার সন্তান যেন আদর্শবান সন্তান হয়।

সন্তানের রন্দ্রে রন্দ্রে মিশে আছে মায়ের ভালবাসা স্নেহ।যার ঋণ কোন দিন শোধ করা সম্ভব নয়।

লোকে বলে: “সন্তান যদি নিজের শরীরের চামড়া দিয়ে জুতা বানিয়ে দেয় তবুও তাঁদের ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়।”
সম্ভব নয় এক ফোটা দুধের মুল্য পরিশোধ করা।

কিন্তু আজ আমরা কতক সন্তানেরা ভুলে যাই মা জননীর কষ্টের মুহুর্তগুলো।দশ মাস দশ দিন যিনি আমার বোঝা বহন করেছেন।কখনো ব্যথায় কাতরিয়েছেন।কিন্তু মুখ খুলে কাউকে বলতে পারেন নি।
শুধু অশ্রুসিক্ত চোখে প্রভুর দরবারে সন্তানের জন্য কল্যাণের দোয়া করেছেন।

ভুমিষ্ট হওয়ার সময় নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে সন্তান প্রসব করেছেন।কিন্তু কলিজার টুকরা সন্তানের চেহারা দেখে সব কষ্ট ভুলে গেছেন।হাসিমুখে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে নিয়েছেন।

ভুলে যাই আমরা কীভাবে শিশুকাল থেকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন।কতো আরামের ঘুমকে হারাম করেছেন।
সন্তানের একটু কষ্ট লাগবের জন্য সারা রাত জাগ্রত থেকেছেন।পাগলপারা হয়ে সন্তানকে ভালোবেসেছেন। সন্তানের সামান্যতম আওয়াজে আন্দোলিত হয়ে যেতেন দরদী “মা”।

কিন্তু এই সন্তানগুলোই এমন দরদী “মা” কে ভুলে গিয়ে মত্ত হয়ে যায় বন্ধুবান্ধব,গাড়ি, বাড়ি ও নারী নিয়ে।

সব শেষে পিতা-মাতা যখন বার্ধক্যে উপনিত হয় তখন তাদের সেবাকে নিজের জন্য কষ্ট আর বোঝা মনে করে।
নিজের ও স্ত্রীর আয়েশের জন্য
পাঠিয়ে দেয় বৃদ্ধ মা – বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে।
একদিন যে মা- বাবা আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ছিলেন।
আজ সে মা- বাবার জন্যই “কালসাপ” হয়ে দাঁড়িয়েছি।

অথচ, আমরা মুসলমান।
আর একজন মুসলমান তো কখনো ভাবতেও পারে না যে,সে তার মা- বাবার সাথে অসুলভ আচরণ করবে।
ইসলাম আমাদের এই শিক্ষা কখনো দেয়নি।

ইসলাম আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, তুমি তাদেরকে কোন কথায় “উফ” শব্দটুকুও বলো না। তাদেরকে ধমক দিয়ো না। তাদেরকে সম্মান জনক কথায় সম্মোধন কর।

যেখানে ইসমান সামান্য “উফ”শব্দটুকু বলতে নিষেধ করেছে । সেখানে কীভাবে একজন মুসলমান তার পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসতে পারে..??

আমার এই লেখাটা ঐ সকল মুসলিম ভাইদের জন্য, যারা মা- বাবাকে ভুলে গেছি।

এবং কষ্ট দিয়ে বহুদূরে সরিয়ে দিয়েছি।
তোমার এই কথা স্মরণ রাখা চাই । একসময় তুমিও বৃদ্ধ পিতা-মাতা হবে।তখন কি তুমি মেনে নিতে পারবে যদি তোমার সাথে এমন আচরণ করা হয়..??

তাই আসুন আমরা সতর্ক হই।নিজের ভবিষ্যত উজ্জ্বল করি।আখেরাতের সম্বল সঞ্চয় করি।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে বুঝার তৌফিক দান করুন। আমীন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ