শিরোনাম
আল্লামা শফীর ১৩ দফা বাস্তবায়নে পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে হেফাজত সরকারবিরোধী আন্দোলন : বিএনপি নেতাকর্মীরা চাঙা তিন কারণে নারায়ণগঞ্জে আবারো গলাকাটা লাশ উদ্ধার গুলিস্তানে তৈরি হতো ফোন, লেখা ‘মেড ইন চায়না-ফিনল্যান্ড’ বাংলাদেশকে ২৮৫৪ কোটি টাকা ঋণ দিলো বিশ্বব্যাংক ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়া বন্ধ করুন: পশ্চিমা বিশ্বকে ব্রিটিশ রাজনীতিক টাঙ্গাইলে বাবাকে মেরে মসজিদের মাইকে প্রচার, ছেলে আটক খুলনা-মংলা পোর্ট রেলপথ ডিসেম্বরে চালু হবে : রেলপথ মন্ত্রী আয়মান আল-জাওয়াহিরি: আল-কায়েদা নেতা মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রচার বিবিসির আমেরিকাকে সরাসরি রাশিয়ার ‘প্রধান হুমকি’ বলে ঘোষণা দিল মস্কো
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

ভারত-চীন সংঘর্ষ : কার বেশি সমর শক্তি ?

/ ৫৪৬ পঠিত
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০

মিডিয়া ডেস্ক : ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে সোমবার রাতে দু‌’পক্ষেই বেশ কয়েকজন সেনা হতাহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা যেন হঠাৎ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে ওই সংঘর্ষ ঘটার পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা নিয়ে এখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে সারা বিশ্ব। এই দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশংকা কতটা? বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এবং পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে গেলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে?

ভারত বা চীন- কেউই কি আসলে এরকম একটা যুদ্ধ চায়? আর এরকম সংঘাতে বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রগুলো কেন উভয় সংকটে পড়বে?  এসব নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডঃ মাহমুদ আলির সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট করেছেন বিবিসির মিজানুর রহমান খান। আওয়ার মিডিয়ার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

চীন এবং ভারতের মধ্যে বড় ধরনের সম্মুখ লড়াই হয়েছিল একবারই, ১৯৬২ সালে। ওই যুদ্ধের পর বিগত দশকগুলোতে এশিয়ার এই দুটি দেশ বিপুল সমরাস্ত্র সম্ভার গড়ে তুলেছে, পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে বৈরিতাও বেড়ে চলেছে।
ভারত-চীন কার বেশি সমর শক্তি?

গত ২০ বছর ধরে দুটি দেশ শুধু নিজেরাই সমরাস্ত্র তৈরি করেনি, একই সঙ্গে অস্ত্র আমদানিও করেছে। বিশেষ করে ভারত পরপর পাঁচ বছর বিশ্বের সবচাইতে বেশি অস্ত্র আমদানিকারক দেশের স্থান দখল করেছিল। চীনও রাশিয়া থেকে কিছু অস্ত্র কিনেছে, কিন্তু বেশিরভাগ অস্ত্র তারা এখন নিজেরা উৎপাদন করে।

অত্যাধুনিক অস্ত্র দুপক্ষের থাকলেও গিরিসংকুল পার্বত্য এলাকায় তারা সেইসব অস্ত্র কতটা ব্যবহার করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় আছে।

বিমান বহর এবং ক্ষেপণাস্ত্র হয়তো তারা ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু যাকে আমরা সেনাবাহিনী বলি, যারা মাটিতে যুদ্ধ করে, তারা তাদের গোলন্দাজ, সাঁজোয়া বা ট্যাংক বহর খুব একটা ব্যবহার করতে পারবে না।

যার যত সেনাই থাকুক, নানা কারণে সব সেনা কোনো দেশই মোতায়েন করতে পারে না। কারণ যেখানে এই যুদ্ধ হবে, সেখানকার ভূপ্রকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও বিবেচনায় নিতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, যে জায়গা নিয়ে বিরোধ, সেটা কোন দেশের কাছে কত বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটির জন্য তারা কতটুকু পর্যন্ত বলপ্রয়োগ করতে প্রস্তুত, সেটাই আসল প্রশ্ন।

ভারত-চীন বর্তমান সংঘাতের নেপথ্যে আন্তর্জাতিক ইস্যু

ভারত এবং চীনের মধ্যে যদিও সীমান্ত চিহ্নিত হয়নি, দু‌’পক্ষের মধ্যে কয়েকবার আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা হয়েছিল যে বর্তমানে যে পরিস্থিতি, সেটা লংঘন করা হবে না। কেউই বিদ্যমান পরিস্থিতি পাল্টানোর চেষ্টা করবেন না। 

সোমবার রাতে যে ঘটনা ঘটেছে সে সম্পর্কে চীনা এবং ভারতীয়, দুপক্ষের বক্তব্য একেবারে পরস্পরবিরোধী। দু’পক্ষই বলছেন যে অন্য পক্ষের সেনাবাহিনী তাদের আগের অবস্থান থেকে সামনে এগিয়ে এসে ভূমি দখল করেছেন এবং এবং সেকারণেই হাতাহাতি-মারামারি হয়েছে। কাজেই পরিস্থিতি একটু ঘোলাটে।

দুপক্ষই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রাখছে। কারা যে কোন এলাকায় ঢুকেছে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে দুপক্ষই তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ছেড়ে দিতে একেবারেই রাজি নয় এবং প্রয়োজনবোধে তারা হাতাহাতি করবেন। এবং সেটা তারা করেছেন। তবে গোলাগুলি হয়েছে এমনটা শোনা যায়নি।

সংঘর্ষের পেছনে রাজনৈতিক-কূটনৈতিক প্রেক্ষাপ

সেনাবাহিনী যা কিছু করে, তার পেছনে একটা রাজনৈতিক-কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট থাকে। বর্তমানে ভারত এবং চীনের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে, সেটা বিশ্বজনীন প্রেক্ষাপটে সেটা বেশ বৈরি।

বিশ্ব রাজনীতিতে এই দু্‌ই দেশের অবস্থান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে। এতে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও চীনের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে বেশ বৈরি হয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে চীন-ভারত সম্পর্ক ক্রমশ শত্রুভাবাপন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই আলোকে দেখতে গেলে এই সীমান্ত বিরোধ তাদের মধ্যকার শত্রুতার একটি প্রকাশ মাত্র।

সূত্র : বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ