শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন

সংবাদ ও সাংবাদিকতা: ইসলামী দৃষ্টিকোণ

/ ৪৪৪ পঠিত
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ জুন, ২০২০

হুসাইন আহমাদ খান

সবাদ বলতে মুদ্রণজগৎ, প্রচারমাধ্যম, সম্প্রচার কেন্দ্র, ইন্টারনেট কিংবা গণমাধ্যমের উপস্থাপিত বর্তমান ঘটনা প্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি, যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

আর সংবাদ সংশ্লিষ্ট কাজ- তথ্য সংগ্রহ, প্রতিবেদন লেখা, সম্পাদনা করা ইত্যাদিকে বলা হয় সাংবাদিকতা। আর এ পেশায় যারা নিয়োজিত থাকেন তাদেরকে বলা হয় সাংবাদিক। সাংবাদিকতা মহৎ ও মহান একটি পেশা।

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি অঙ্গনে ইসলামের স্বতন্ত্র বিধিনিষেধ ও সঠিক দিকনির্দেশনা বিদ্যমান। এই হিসেবে সংবাদ ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও রয়েছে ইসলামের আদেশ-নিষেধ এবং সঠিক ও সুন্দর দিকনির্দেশনা।

বস্তুত সাংবাদিকতা হলো, ইসলামী ‘দাওয়াত ইলাল্লাহ’ এর একটি অঙ্গ বা মাধ্যম। আর ইসলামে ‘দাওয়াত’র মূল ভিত্তি হলো তিনটি বিষয়ের উপর- তাই সাংবাদিকতার মূল ভিত্তিও সেই তিনটি বিষয়ের উপর। যথা- এক. দাওয়াত ইলাল্লাহ তথা আল্লাহর পথে আহ্বান। দুই. আমর বিল মারূফ তথা সৎ কাজের আদেশ। তিন. নেহি আনিল মুনকার অর্থাৎ অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা।

দুই

সাংবাদিকতা ইসলামী দাওয়াতের অংশ হওয়াতে এর কার্যক্রম দাওয়াতের মূলনীতি অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। সুতরাং এখানে গণমাধ্যমগুলো দাওয়াতের ক্ষেত্র বা মাধ্যমের ভূমিকা পালন করবে আর একজন সাংবাদিক দাঈ’র ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন।

সাংবাদিকতার প্রথম ভিত্তি দাওয়াত ইলাল্লাহ তথা আল্লাহর পথে আহ্বান করা। এ থেকে বুঝে আসে, সংবাদমাধ্যমগুলো আল্লাহ তাআলা প্রণীত দ্বীন বা ইসলামী শরিয়তবিরোধী কোনো কিছু প্রচার করতে পারবে না।

অর্থাৎ সংবাদ ও সাংবাদিকতার সাথে সম্পৃক্ত সকল কাজ শরিয়তসম্মত পন্থায় আঞ্জাম দিতে হবে এবং শরিয়তবিরোধী সকল কাজ পরিহার করতে হবে। যেমন- সত্য ও সঠিক সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। শিরিকী কোনো কর্মকাণ্ডের প্রচার-প্রসার করা যাবে না ইত্যাদি ।

তিন

সাংবাদিকতার দ্বিতীয় মূলনীতি হলো, আমর বিল মারূফ তথা সৎ ও নেক কাজের আদেশ করা। অর্থাৎ গণমাধ্যমেগুলো সত্য ও সঠিক সংবাদ প্রচার করবে এবং এর মাধ্যমে দেশ জাতি ও জনগণকে ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করবে।

প্রয়োজনের তাগিদে সঠিক ও সুন্দর পরামর্শ দিবে। সমাজের সঠিক চিত্র তুলে ধরে সমাজনিয়ন্ত্রকদের সাহায্য করবে। দেশ ও জাতির দুর্দিনে হিতাকাঙ্খী বন্ধু হয়ে পাশে দাঁড়াবে।
সাংবাদিকতার তৃতীয় মূলনীতি হলো, নেহি আনিল মুনকার তথা অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা।

এটা দুইভাবে হতে পারে। প্রথমত সমাজে ঘটমান অন্যায় ও অপকর্মগুলোর সঠিক চিত্র সকলের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে। দ্বিতীয়ত সরাসরি সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার মাধ্যমে। অর্থাৎ সংবাদকর্মীর কাজ হলো, তিনি তার অনুসন্ধান লেখনী ও উপস্থাপনায় সমাজের অন্যায়-অপরাধগুলো চিহ্নিত করবেন। এর প্রতিবাদে সোচ্চার হবেন। সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজনিয়ন্ত্রকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন এবং সমাজ থেকে এ অপরাধ উৎখাত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।

চার

সাংবাদিকতায় একজন সাংবাদিক একজন দাঈ’র ভূমিকা পালন করে থাকেন। সুতরাং একজন দাঈ’র গুণাবলি -বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা, ভাষা ও সাহিত্য প্রতিভা, জীবন্ত হৃদয়, উন্নত চরিত্র ও বিশুদ্ধ আকিদা- তার মধ্যে থাকতে হবে। তিনি হবেন, দ্বীনদার, সৎ ও নিষ্ঠাবান। পাশাপাশি তার মধ্যে আমনতদারী থাকতে হবে। থাকতে হব, সৎ সাহস ও সত্য প্রকাশে আপোসহীনতার গুণ।

একজন সাংবাদিকের জন্য নিরপেক্ষ হওয়া আবশ্যক। কোন দল ও মতের অন্যায় পক্ষপাতে তিনি দুষ্ট হবেন না। এক দলের প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়ে অপর দলের প্রতি বিদ্বেষ পরায়ন মনোভাব রাখা একজন সাংবাদিকের জন্য কখনই উচিত নয়। কেননা এগুলো সঠিক ও সত্য সংবাদ প্রচারে অনেক সময় বাধাগ্রস্ত করে। অথচ আল্লাহ তাআলার সুস্পষ্ট নির্দেশ হচ্ছে-

কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের কখনো যেনো সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে।- সূরা মায়েদা।

মোদ্দাকথা, সংবাদমাধ্যমগুলো সঠিক দ্বীন প্রচার, মানুষকে সৎ কাজের আদেশ, সত্য ও সুন্দর পথনির্দেশ করবে এবং অন্যায় ও অপরাধ থেকে নিষেধ করার কাজে নিয়োজিত থাকবে। আর একজন সাংবাদিক সৎ ও নিষ্ঠার সাথে এ কাজগুলো আঞ্জাম দেবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ