মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ১০:০১ পূর্বাহ্ন

চরম সংকটে প্রিন্ট মিডিয়া : সংবাদপত্রে সরকারি বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধে গড়িমসি

/ ২৮৫ পঠিত
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

আওয়ার মিডিয়া : করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি দেশের প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো। আর্থিক সংকটে পড়ে অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সংগ্রাম করছে সংবাদপত্রগুলো। সংবাদপত্রের প্রকাশনা অব্যাহত রাখার স্বার্থে সরকারের কাছে বিজ্ঞাপন বিল বাবদ পাওনা টাকা দ্রুত পরিশোধ করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নির্দেশ দিলেও প্রায় তিন সপ্তাহেও এই নির্দেশ কার্যকর হয়নি।

এছাড়া ক্রোড়পত্রের বিলের বহুগুণ বেশি টাকার সরকারি বিজ্ঞাপন বিল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে সংবাদপত্রগুলোর পাওনা রয়েছে। যা এখনো ও পরিশোধ করা হয়নি।

করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে টানা সাধারণ ছুটি, বিভিন্ন জেলা লকডাউন ঘোষণা, গণপরিবহন বন্ধ থাকা—এসব কারণে পত্রিকা বিলি ও বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বেসরকারি বিজ্ঞাপন।

সরকারি বিজ্ঞাপনও সীমিত হয়ে গেছে। বিজ্ঞাপন বিল সংগ্রহও একদম বন্ধ। কর্মীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে সংবাদপত্রগুলোর প্রকাশনা অব্যাহত রাখা হয়েছে। পৃষ্ঠা সংখ্যা কমিয়ে, কেউ বা প্রকাশনা বন্ধ করে অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। কয়েকটি সংবাদপত্র এরই মধ্যে বন্ধও হয়ে গেছে। সংকটে পড়ে কয়েকটি সংবাদপত্র কর্মীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে পারছে না। আঞ্চলিক অনেক সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে গেছে।

এমন সংকটে আগে কখনো পড়েনি এ দেশের সংবাদপত্র শিল্প। এই সংকটের মধ্যেও মূলধারার সংবাদপত্রগুলো তাদের প্রকাশনা অব্যাহত রেখে মানুষকে কেবল তথ্যসেবাই দিচ্ছে না, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত অনেক গুজব ও অসত্য তথ্য প্রচারকেও মোকাবেলা করে চলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারি সংকটে প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা যেমন জরুরি, তেমনি সত্যনিষ্ঠ তথ্যসেবাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এই অবস্থায় গত ৩০ এপ্রিল নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) কর্মকর্তারা তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে করোনা দুর্যোগের মধ্যে সংবাদপত্রের বকেয়া বিজ্ঞাপন বিল পেতে তাঁর সহযোগিতা চান।

তারও এক মাস আগে গত ৩০ মার্চ তথ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে নোয়াব, সম্পাদক পরিষদ ও অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন ওনার্স (অ্যাটকো) নেতারা তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিজ্ঞাপন বাবদ সরকারের কাছে পাওনা টাকা দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারের কাছে পাওনা বিজ্ঞাপনের বিল পত্রিকাসহ সব গণমাধ্যমকে পরিশোধের নির্দেশনা দিয়ে ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবকে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বিল পরিশোধের পর বিষয়টি যেন মন্ত্রিপরিষদকে অবহিত করা হয় সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সরকারি ক্রোড়পত্র বাবদ সরকারের কাছে পাওয়া বিলের টাকা দ্রুত পরিশোধের জন্য তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। কিন্তু গেল দেড় মাসেও তা পরিশোধ করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পরই আমরা তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপন বাবদ সরকারের কাছে পাওয়া টাকা অবিলম্বে পরিশোধের দাবি জানিয়েছি। আমরা বলেছি, এটা গণমাধ্যমের পাওনা টাকা।

আজ হোক আর দুই দিন পরে হোক দিতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে এই টাকাটা পরিশোধ করা হলে এটাকে আমরা সরকারের প্রণোদনা হিসেবেই বিবেচনা করব। কিন্তু এত দিনেও এই টাকাটা পরিশোধ না করা খুবই দুঃখজনক। চলতি বাজেট থেকেই এই বকেয়া পরিশোধের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাব।’ তিনি আরো বলেন, সরকারের কাছ থেকে বকেয়া পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের মালিক-কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেও ঘাটতি রয়েছে, তারা এ জন্য সরকারের সঙ্গে কোনো দর-কষাকষিই করতে পারেনি বলে তিনি মনে করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ