শিরোনাম
লেখক ফোরাম সাহিত্য প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে আছেন যারা ডিএসইসি লেখক সম্মাননা পেলেন লেখক ফোরামের জহির উদ্দিন বাবর ও মাসউদুল কাদির আল্লামা শফীর ১৩ দফা বাস্তবায়নে পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে হেফাজত সরকারবিরোধী আন্দোলন : বিএনপি নেতাকর্মীরা চাঙা তিন কারণে নারায়ণগঞ্জে আবারো গলাকাটা লাশ উদ্ধার গুলিস্তানে তৈরি হতো ফোন, লেখা ‘মেড ইন চায়না-ফিনল্যান্ড’ বাংলাদেশকে ২৮৫৪ কোটি টাকা ঋণ দিলো বিশ্বব্যাংক ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়া বন্ধ করুন: পশ্চিমা বিশ্বকে ব্রিটিশ রাজনীতিক টাঙ্গাইলে বাবাকে মেরে মসজিদের মাইকে প্রচার, ছেলে আটক খুলনা-মংলা পোর্ট রেলপথ ডিসেম্বরে চালু হবে : রেলপথ মন্ত্রী
রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১০:৫০ অপরাহ্ন

আলেম কারা, যে কোনো শিক্ষায় শিক্ষিতকে আলেম বলা যাবে ?

/ ৫০৮ পঠিত
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

সাঈদ বিন ইদ্রিস

‘আলেম’শব্দটা আরবি ইলম থেকে,যার অর্থ জ্ঞানী। শাব্দিক বিচারে যেকোনো ধারার শিক্ষিত ব্যক্তিকে আলেম বলা যাবে-এতে কোনো বাধা নেই। অর্থাৎ, তখন বলতে হবে সে একজন জ্ঞানী ব্যক্তি;সে যে বিষয়ের ওপরেই হোক।
কিন্তু,বাস্তবিক পক্ষে কি সকল জ্ঞানী-কেই “আলেম” বলা যাবে?
উত্তর হবে,না।
কারণ,আলেম শব্দের আভিধানিক অর্থ -ইসলাম ধর্মতত্ত্বজ্ঞ।( শুধু ‘পণ্ডিত’ অর্থেও ব্যবহার হয়,যার আলোচনা সামনে স্পষ্ট হবে।)

পরিভাষায় ইলম বলা হয়-এমন জ্ঞান যা আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।

তাই,যে ইলম আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছায় না তাকে ‘ইলম’বলা হবে না।আর যদি ইলম নাই বলা হয়,তাহলে সেই জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিকে আলেম বলা কীভাবে শুদ্ধ হবে!

আর পৃথিবীতে প্রচলিত সব জ্ঞান’ই কি আল্লাহ পর্যন্ত পৌছায়?বরং গতানুগতিক শিক্ষাধারা মানুষকে আল্লাহ বিমুখ করে।
তাই,স্বভাবতই বলা যায় -যেকোনো শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই তাকে আলেম বলা যাবে না।

দ্বিতীয়ত:
‘আলেম’ শব্দটি একটি পারিভাষিক শব্দ হয়ে গেছে।অর্থাৎ, যারা কুরআন হাদিসের জ্ঞান লাভ করবে একমাত্র তাদেরকে আলেম বলা হবে,অন্য কাউকে নয়।আর,কোনো শব্দ যখন কোনো একটি পরিভাষার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়,তখন ওই শব্দ শুধুমাত্র ওই শাস্ত্রে পারদর্শী ব্যক্তিকে বোঝানোর জন্যই ব্যবহার হয়;অন্য কারো জন্য নয়।
বর্তমানে পুরো বিশ্বজুড়েই ‘আলেম’ শব্দটি কুরআন হাদিসের সমুদয় জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝানোর জন্যই ব্যবহার হয়।
সুতরাং,এ কথা সুস্পষ্ট যে,’আলেম’ একমাত্র কুরআন -হাদিসের সমূদয় জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিকেই বলা হবে।

যারা এই ভুলের মধ্যে আছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায় যে,শুধু কওমি মাদরাসায় পড়লেই তাকে আলেম বলা হবে কেনো?
এর উত্তর পুনঃ দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছি না।উপরোক্ত আলোচনা থেকেই বুঝে নেওয়ার কথা।
তবে, যদি কেউ মাদরাসায় নাও পড়ে,বরং কোনো বিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে একান্তই কুরআন -হাদিসের জ্ঞান আহরণ করে, তাকেও আলেম বলা যাবে।কিন্তু তার মানে এই নয় যে,একজন ডাক্তার-কেও ‘আলেম’ বলা বৈধ হবে।

সাধারণ যুক্তির বিচারেও তাদের কথা গ্রহণযোগ্য নয়।কারণ,একজন আলেমকে কি কখনো ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বলা শুদ্ধ হবে?হবে না।কারণ,এটা তাদের পরিভাষা এবং নির্দিষ্ট জ্ঞান কর্তৃক সীমাবদ্ধ। সুতরাং ডাক্তার তাকেই বলা হবে,যে ডাক্তারি বিদ্যায় পারদর্শী হবে।ইঞ্জিনিয়ার সেই হবে যে উক্ত বিদ্যা অর্জন করেছে।
যদি আলেমকে ডাক্তার বলা শুদ্ধ না হয়,তাহলে ডাক্তারকে আলেম বলা কীভাবে শুদ্ধ হবে।

তাই,সচেতন হতে হবে।এবং কেউ যদি কোনো পরিভাষার কোনো শব্দকে অন্য কোথাও ব্যবহার করে–তাহলে সে ওই পরিভাষার “শব্দ চোর” বলে বিবেচিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ