রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০১:৫৬ অপরাহ্ন

জীবে দয়া করে যে জন…….

/ ৫০৪ পঠিত
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৩ মে, ২০২০

 সাঈদ আবরার

১৭ই মার্চ ।ছুটি দেয়া হয় দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ছুটি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও । বাধ্যতামূলকভাবে হল ছেড়ে যায় শিক্ষার্থীরা । নীরবতা নেমে আসে ক্যাম্পাসগুলোতে । আড্ডা মুখর টিএসসি হারায় তার চিরাচরিত রূপ । নেই চা স্টলের টুংটাং শব্দ ।ব্যস্ত মধুর ক্যান্টিনে নেই শিক্ষার্থীদের আনাগোনা । হঠাৎ যেন থমকে গেছে সব । একেবারে “কোথাও কেউ নেই” অবস্থা ।

এতে ভীষণ বিপাকে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ার প্রাণীগুলো। অভুক্ত কুকুরগুলো উচ্ছিষ্ট খুজঁতে খুজঁতে ক্লান্ত । ক্ষুধার তাড়নায় যখন তখন ঝাঁপ দিচ্ছে বিড়ালের উপর । দু’চারটা মিলে ছিঁড়ে ফিড়ে খাচ্ছে 

একটা বিড়াল ।এমন খবর শোনার পর থেকেই বিচলিত হয় ক’জন তরুণ। উদ্যোগ নেয় ।রুটি- বিস্কুট নিয়ে উপস্থিত হয় প্রতিদিন ।নিজ হাতে ছিঁড়ে ছিঁড়ে ওদের খাওয়ায়। কোন কোন দিন উচ্ছিষ্ট ভাত ,কাঁচা গোশত, মুরগির হাড়গোড়ও নিয়ে আসে ।টুপি -পাঞ্জাবী দেখে কোন মাদরাসার হুজুর মনে হয়েছিল ।

কিন্তু কথা বলে জানা যায় তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী ।একেকজন একেক ডিপার্টমেন্টে পড়ে। তাছাড়া ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের ঢাবি শাখার দায়িত্বশীলও তারা । তাদের এই প্রশংসিত উদ্যোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন , ‘আসলে আমরা মানুষ সমাজবদ্ধ প্রাণী ।আশপাশের পশুপাখি গুলোকে নিয়েই কিন্তু সুসম্পন্ন সমাজ।এখন করোনা থেকে সুরক্ষার জন্যে মানুষ ঘরবন্দি।  সেক্ষেত্রে খাদ্য সংকটে পড়ে যাচ্ছে বাইরের প্রাণীগুলো ।পাচ্ছেনা উচ্ছিষ্ট।

তো আমরা যখন হলের প্রাণীগুলোর  অবস্থা জানতে পারলাম ।তখনই উদ্যোগ নিয়ে অল্প কিছু রুটি -বিস্কুট নিয়ে এলাম।ক্ষুদার্থ প্রাণীগুলোকে দেখে দিলে-মায়া জমে গেল।তারপর থেকে প্রতিদিনই অল্প কিছু নিয়ে আসি ।নিজ হাতে খাওয়াই।এটা আমাদের দায়িত্বই মনে করি।তাছাড়া 

আমাদের ইসলামও কিন্তু এ শিক্ষাই দেয় ।জীবের প্রতি দয়া করতে বলে। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু  বলেছিলেন –

“আমার রাজ্যে যদি একটি কুকুরও না খেয়ে মারা যায় তাহলে এর দায় আমাকে আল্লাহর দরবারে দিতে হবে”। 

এছাড়াও আরো কজনকে দেখা যায় সাংগঠনিক উদ্যোগ বা ব্যক্তিগতভাবেই কুকুর ,বিড়াল গুলোকে খাবার দিচ্ছে ।

আমি মনে করি এভাবে যদি আমরা যার যার জায়গা থেকে সাধ্যমত অভুক্ত মানুষ ,ক্ষুধার্ত পশুপাখির 

পাশে দাঁড়াই ,তাহলে শীঘ্রই এ সংকট কেটে যাবে! ইনশাআল্লাহ!

শিক্ষার্থী: জামিয়া ফরিদাবাদ 

sayedabrar16@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ