শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

অদ্ভুত স্বপ্ন……….

/ ৫৩৮ পঠিত
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২০

আনীস বিন সাইফ

এশার নামাজ পড়ে ঘরে ফিরছি শান্ত মনে।ধীর পদে। কোন তাড়াহুড়া নেই। গ্রামাঞ্চল হওয়ায় এখনই যেন গভীর রাত। চারিদিকে চাঁদের আলো ছাড়া আর কোনো আলো নেই। চাঁদের আজ আট দিন। তাই আলো বেশি না। যেন আলো-আঁধারের খেলা।হাঁটছি আর এক মনে সূরা মুলক তেলাওয়াত করছি মৃদু আওয়াজে। কোন দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

কিছু দূর যেতেই ঝিঁঝিঁপোকার গান ভেসে আসতে লাগলো তেলাওয়াতের আওয়াজ ছাপিয়ে। অনেকে ঝিঁঝিঁপোকার আওয়াজ সহ্য করতে পারেনা। আমার বিরক্ত লাগছে না, শুনতে ভালই লাগছে। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া শব্দ বলতে দুএকটা নিশাচর প্রাণীর ডাক।


হঠাৎ থমকে দাঁড়ালাম। দাঁড়াতে হল।ওপর থেকে কী যেন পড়লো আমার সামনে দু-তিন হাত দূরে। কেঁপে উঠল সারা শরীর। যেন জমে ফ্রিজ হয়ে গেছে। ধাতস্থ হতেই মিষ্টি ঘ্রাণ নাকে এসে লাগল। একেবারে অপরিচিত একটি ঘ্রাণ। আমি সম্মোহিত হয়ে গেলাম। কোথায় আছি বুঝতে কষ্ট হলো। দুপা সামনে এগোতেই সাদা কিছু চোখে পড়ল।

চাঁদের আলোয় চিকচিক করছে। কেমন পিচ্ছিল মনে হলো। একটু পরেই দেখতে পেলাম তা উপরের দিকে উঠে আসছে। অনেকক্ষণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার কারণে অন্ধকার ফিকে হয়ে গেছে। সাথে যোগ হয়েছে চাঁদের আলো। আকাশ পরিষ্কার। গাছের ফাঁক গলে আলো এসে পড়ছে রাস্তায়। এখন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।


আর বুঝতে অসুবিধা হলো না সেটা কী?সাদা রঙের একটি সাপ। অবাক হলাম! সাপ দেখলেই তো আমার দৌড়ে পালানোর কথা। অথচ আমি দাঁড়িয়ে দেখছি সে কী করে! সাধারণত মানুষ দেখলে তেড়ে আসে অথবা পালিয়ে যায়। কিন্তু এটি তো নড়ছেনা। ফণা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। সাপ যে দাঁড়াতে পারে তা এই প্রথম দেখলাম। শুনেছি অবশ্য। সাপ যখন ফণা তোলে তখন মাথাটা উপরের দিকে উঠে যায়। কেমন যেন দাঁড়িয়ে যায়। বিষাক্ত সাপ ফণা তুলে কাউকে তাড়া করলে মাথা মাটি থেকে কিছুটা উপরে থাকে।


আমি বুঝতে পারছি না রাস্তার মাঝখানে সাপটি এভাবে কেন দাঁড়িয়ে আছে? আমার দিকে তেড়ে আসলে তো আমার কিছুই করার নেই। কারণ এই আশ্চর্য প্রাণীর সাথে দৌড়ে কখনো পারব না। কিন্তু সে তো যাচ্ছে না। আমিও যেতে পারছি না। কারো আসার সম্ভাবনাও নেই এই সময়ে। ভিন্ন রাস্তা ধরতেও মন চাচ্ছে না। আসলে ভয় এর পরিবর্তে কৌতুহল ভর করেছে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি ওর দিকে।
এভাবে কতক্ষন কেটে গেল বলতে পারব না।

হঠাৎ চারদিক তীব্র আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে গেল। গরম বাতাসের ঝাপটা এসে লাগল গায়ে।চোখ সয়ে এলে দেখলাম সাপটি নেই! সাপের স্থানে দাঁড়িয়ে আছে আপাদমস্তক সাদা চাদরে ঢাকা কেউ। শরীরের প্রতিটি লোম দাঁড়িয়ে গেল। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে। দোয়া কালাম যে কিছু পড়ব তাও পারছি না। মনে পড়ছে না কিছুই। আবার সেখান থেকে দৌড়ে পালাবো সেটাও অসম্ভব। পা এক চুলও নড়ছে না। গলগল করে ঘাম ঝরছে।

আমি নিরুপায়। চিৎকার দিতে গিয়ে দেখলাম গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছেনা। আমি ভয় পেয়ে গেলাম, যখন দেখলাম সে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। নড়াচড়ার কোন শক্তি নেই। যেনো মরে যাচ্ছি। সামনে যমদূত দাঁড়িয়ে আছে। জানে পানি এল,যখন কথাটি কানে এল। কেউ বলছে ভয় পাচ্ছো কেন? আমি তাকালাম। উপরে গাছ ছাড়িয়ে আমার দৃষ্টি আরো ওপরে চলে গেল। কিন্তু চেহারা দেখতে পেলাম না। ভয় নেই সে আবার বলতে শুরু করল।

আমি যদিও ততক্ষণে বুঝে গেছি, আমি কিসের মুখোমুখি। তোমার কোন ক্ষতি করতে আসিনি কথাটা শুনে জমাট বাধা এক গাদা শ্বাস বের হয়ে এল। বুকটা হালকা হয়ে গেল। জীবন পেলাম। চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছিল “ক্ষতি করতে আসেননি তাহলে ভয় দেখাচ্ছ কেন?” আবার বলছ ভয় নেই। সে আবার বলে উঠলো, “তোমার তেলাওয়াত আমার অনেক ভালো লেগেছে “।

মনে পড়ল, মসজিদ থেকে বেরিয়ে সূরা মুলক তেলাওয়াত করছিলাম। কিন্তু বেশি আওয়াজে তো পড়িনি। আবার সেই গভীর গলা ভেসে এলো,”আমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করে দিও। বুঝতে পারছি তোমার অনেক কষ্ট হচ্ছে।

তুমি যাও বাড়ি ফিরে যাও। তোমার জন্য যে সবাই অপেক্ষা করছে”। আমি কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই বুঝতে পারলাম আমি বিছানায়। ঘামে সারা শরীর ভিজে একাকার। তখনই শুনি মসজিদ থেকে ভেসে আসছে ফজরের আজান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ