শিরোনাম
আল্লামা শফীর ১৩ দফা বাস্তবায়নে পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে হেফাজত সরকারবিরোধী আন্দোলন : বিএনপি নেতাকর্মীরা চাঙা তিন কারণে নারায়ণগঞ্জে আবারো গলাকাটা লাশ উদ্ধার গুলিস্তানে তৈরি হতো ফোন, লেখা ‘মেড ইন চায়না-ফিনল্যান্ড’ বাংলাদেশকে ২৮৫৪ কোটি টাকা ঋণ দিলো বিশ্বব্যাংক ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়া বন্ধ করুন: পশ্চিমা বিশ্বকে ব্রিটিশ রাজনীতিক টাঙ্গাইলে বাবাকে মেরে মসজিদের মাইকে প্রচার, ছেলে আটক খুলনা-মংলা পোর্ট রেলপথ ডিসেম্বরে চালু হবে : রেলপথ মন্ত্রী আয়মান আল-জাওয়াহিরি: আল-কায়েদা নেতা মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রচার বিবিসির আমেরিকাকে সরাসরি রাশিয়ার ‘প্রধান হুমকি’ বলে ঘোষণা দিল মস্কো
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০১:৪৬ অপরাহ্ন

অবৈধ প্রেম : মনকে নিয়ন্ত্রণ করবেন যেভাবে

/ ৫১৪ পঠিত
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০

জুনায়েদ হাফিজ

প্রেম – ভালোবাসা মানুষের স্বভাবজাত একটি গুণ। হাদীস শরীফের ভাষ্য অনুযায়ী–“মুমিন হলো ভালবাসার পাত্র, যাকে  কেউ  ভালবাসে না এবং সে নিজেও কাউকে ভালোবাসে না, তার মাঝে কোন কল্যাণ নেই”।

আমাদের বুঝতে হবে হাদীসে ভালোবাসা দ্বারা কোন ভালোবাসা বুঝানো হয়েছে ? এ বিষয়টি স্পষ্টই যে, হাদীসে ভালোবাসা দ্বারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোন মুমিন অন্য মুমিনকে ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে। প্রচলিত প্রেম-ভালোবাসা তো কখনই নয়। এ থেকে এ বিষয়টি একেবারেই সুস্পষ্ট যে,  ভালোবাসা কোন খারাপ কিছু নয়।  মানুষ একে অপরকে ভালোবাসবে, এটাই স্বাভাবিক।
এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তবে সে ভালোবাসাটা পবিত্র ও কল্যাণময় হওয়ার জন্য  পূর্বশর্ত হলো স্থান কাল ও পাত্রের দিকে লক্ষ্য রাখা । কাকে ভালবসছি আমি, কোন সময়ে ভালবাসছি,আমার এই ভালোবাসটা শরীয়ত সমর্থিত কিনা– এ বিষয়গুলোর প্রতি প্রতিটি
মুসলমানকেই লক্ষ্য রাখতে হবে। ইসলামের বৈধতার কথাটি বাদই দিলাম, স্বাভাবিকভাবে মনোবিজ্ঞান অনুযায়ী এর অনেক বড় ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের আচার-উচ্চারণে প্রকাশ পায়। মানুষিক।দুশ্চিন্তা,সারাক্ষণ পেরেশানি,অস্থির অস্থির ভাব প্রভৃতি  প্রচলিত প্রেম-ভালোবাসার একটি একটি মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব!!  এর ফলে দৈনন্দিন কাজ-কর্মসহ সকল ক্ষেত্রেই একটা দুশ্চিন্তা বিরাজ করে। এমনটি হওয়াই স্বাভাবিক। 

কারণ প্রতিটি বস্তু ব্যবহারের নির্দিষ্ট একটি স্থান ও সময় থাকে, সময়ের আগে কোন কিছুতেই পরিপূর্ণ
তৃপ্তি ও প্রকৃত প্রশান্তি অনুভব হয়না! আল্লাহ প্রদত্ত বিধান লঙ্ঘন করে অন্তত সাময়িক সময়ের জন্য কৃত্রিম সুখ অনুভূত  হলে হতেও  পারে, কিন্তু কস্মিনকালেও  তা স্থায়ী হবে না। কারণ তাকে তো আর সুখ বলা হয়না। প্রকৃত সুখ তো সেটাই, যার পরে
কোন দুঃখ নেই। গোনাহ কিংবা অপরাধ থেকে বেঁচে থাকার কষ্টটাই মূলত প্রকৃত সুখ!! এই সুখই হলো এমন সুখ যার পর কোন দুঃখ নেই।

বর্তমান সময়ে প্রেম-ভালোবাসা যেন একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। যুব সমাজের দিকে তাকালে মনে হয়, প্রেম আর ভালোবাসার জন্যই মনে হয় তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে! একটি প্রেমের জন্য মানুষ কত কী পারে– ভাবতেই অবাক লাগে!! যার প্রেমে সে পড়েছে
তার জন্য  মরতেও প্রস্তুত। নিজের জীবনের শেষ বিন্দুটুকু দিয়ে হলেও আশেক তার  মাশুকের মন রক্ষা করে। এর বাস্তবচিত্র এখানে ফুটিয়ে তোলার প্রয়োজন বোধ করছি না। নিজের চারপাশটায় একটু সচেতন দৃষ্টিতে তাকালেই দেখতে পারবেন  কী ঘটছে আমাদের  আর্দশ (?) যুব সমাজে।

এ অবৈধ প্রেমের প্রতি এত আসক্ততা যে, তাকে কেউ এর থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে না। কারোর পক্ষে সম্ভব হয়না আশেক-মাশুককে প্রকৃত বাস্তবতাটা অনুধাবন করাতে।

কারণ তখন তাদের ম্যান্টেলিটিতে শুধু একটাই পাওয়া, একটাই আশা। অন্ধবিশ্বাসের মত তার অন্তর এক দিকেই সীমাবদ্ধ হযে যায়। যার ফলে এই সীমাবদ্ধতার সীমারেখা অতিক্রম করা তার পক্ষে সম্ভব হয় না  । তখনই মানুষকে কোন ঔষুধে কাজ হয় না। কোন ঝাঁড়-ফোকেও আছর করে না। এরকম হাজরো রোগ আছে,  যেগুলো কোন ঔষুধে কাজ হয় না।  তবে কি এসব রোগ থেকে মুক্তির কোন উপায় নেই? কেন নেই, অফকোর্স আছে। মনোবিজ্ঞান।  হ্যাঁ, এই মনোবিজ্ঞান দ্বারাই এসব দুরারোগ্য ব্যাধির প্রতিকার সম্ভব। বর্তমান সময়ে “মনোবিজ্ঞান” চিকিৎসা বিজ্ঞাণীদের আলোচনার অন্যতম বিষয়। এই মনোবিজ্ঞানই হলো এমন এক অন্তরীন  মহাঔষুধ, যার মাধ্যমে শুধু প্রেম- ভালোবাসার রোগ নয়, অন্য সকল মনরোগও প্রতিরোধ সম্ভব।

এখানে মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে অবৈধ প্রেম- ভালোবাসা থেকে বঁচে থাকার কয়েকটি প্রতিকার উল্লেখ করা হলো।

নিয়মগুলো মেনে চেষ্টা অব্যাহত রাখলে ইনশাআল্লাহ  অবৈধ-প্রেম ভালোবাসা থেকে বিরত থাকা সম্ভব।

** প্রথমতঃ বুঝতে হবে যে, সাহস ও কষ্ট ত্যাগ স্বীকার ব্যতীত কোন সহজ কাজও হয়না।শরীরের সামন্য রোগ ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে গেলেও তিক্ত ঔষধ সেবন করতে হয়। বাহ্যিক রোগের যখন এই অবস্থা, তখন অভ্যন্তরীণ রোগের ক্ষেত্রে তো আরও বেশি ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করতে হবে। মনকে এর জন্য পরিপূর্ণ প্রস্তুত করতে হবে।


** তার সাথে উঠা-বসা, কথা-বার্তা,দেখা-শুনা,যাওয়া-আসা সম্পূর্ণরুপে বন্ধ করে দিতে হবে। সম্পূর্ণ বন্ধ করতে না পারলে ধীরে ধীরে নিয়ম মেনে অনুশীলন করে যাবে। প্রথমে দিনে একবার, এরপর তিন দিনে একবার, সপ্তাহে একবার– এভাবে ধীরে ধীরে তার সাথে যোগাযোগ ছিন্ন করবে। অন্য কেউ তা আলোচনা করলে তাকে বাধা দিতে হবে এবং লৌকিকভাবে হলেও যার প্রেমে পড়েছে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বাহানায় তার সমালোচনা করতে থাকবে।


** কখনো তার কথা মনে পড়লে তার চেহারার বিভৎসতা নিয়ে ভাববে। মরার পর তো তার এই
চেহারা আর থাকবে না। কঙ্কালসারে পরিণত হবে। মৃত্যুর পরের কথা বাদই দিলাম, বৃদ্ধা হলেই তো তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যাবে না। কোমল চেহারাটায় ভাঁজ পড়ে যাবে।  দাঁতগুলো পোঁকা খেয়ে ফেলবে। চাপা ভেঙ্গে যাবে, চোঁখ দুটো ভেতরে চলে যাবে– এভাবে যখনই  তার কোমল চেহারটার কথা মনে পড়বে তখনই তার কুশ্রী ও বিভৎসরুপ কল্পনা করতে থাকবে।


**দোযখের বর্ণনা এবং আল্লাহর নাফরমানীর কারণে আল্লাহ কিরূপ অসন্তুষ্ট হন এজাতীয় বর্ণনা যে সকল  কিতাবে আছে এমন কোন কিতাব বা হাদীসের গ্রন্থ পাঠ করতে থাকবে।  তাহলে অবৈধ প্রেমের কারণে গুনাহের শাস্তির কথা স্মরণ হয়েছে চিন্তা অবদমিত হবে। কারণ মন আরামপ্রিয় তাই কোন কিছুতে শাস্তি অনুভূত হলে  সে তা থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ হয়।


**একটা নির্দিষ্ট সময়ে নির্জনে বসে চিন্তা করবে যে, “আমি কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান রয়েছি। আর আল্লাহ আমাকে ধমক দিয়ে বলছেন হে বেহায়া! বেশরম!!  তোর  লজ্জা হয় না আমাকে ছেড়ে একটা মুর্দার দিকে ঝুঁকে পড়লি? এর জন্য তোকে আমি সৃষ্টিকরেছিলাম? নালায়েক কোথাকার?তুই তো রাস্তার কুকুর থেকেও অধম! তাকে আমি জ্ঞান দেইনি, তোকে তো জ্ঞান দিয়েছি… তুবও তুই এমন কাজ কীভাবে করলি??”” ইত্যাদি ইত্যাদি কথা স্বরণ করতে থাকবে।


বিঃদ্রঃ ইসলামী মনোবিজ্ঞান অনুযায়ী পরিপূর্ণ সফলতা ও রোগমুক্তি পেতে হলে কোন হক্কানী আলেম বা পীরের স্বরণান্ন হওয়ার বিকল্প নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ