রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৯:০৭ অপরাহ্ন

বিশ্ব বাজারের নতুন পণ্য : প্লাস্টিক চাল

/ ৪৫৪ পঠিত
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০

আব্দুল্লাহ মাহমুদ

ভেজাল আর নকলে ছেয়েগেছে চতুর্দিক। সমাজের এমন কোন স্তর আর বাকী নেই,যেখানে ভেজাল বা নকলের আশংকা নেই।বিশেষ করে আমাদের খাবার-দাবারে ভেজাল আর নকলের ছড়াছড়িটা একটু বেশি। কারণ বাজারে এখন পাওয়া যাচ্ছে ফেক ফুড বা নকল খাবার।

সাধারণ খাবার থেকে শুরু প্যাকেটজাত উন্নত খাবারগুলোরও একই অবস্থা। আর সে কারণেই আজকের বিশ্ব বাজারের বড় একটি অংশ দখল করে আছে ফেকফুড বা নকল খাবারে।

অথচ এই খাবারের উপরই নির্ভর করে মানুষের দৈহিক গঠনপ্রবৃদ্ধি ও শারীরিক সুস্হতা-অসুস্হতা। তাছাড়া খাবার মানুষ বেঁচে থাকার একটি মৌলিক কারণও বটে।খাদ্য গ্রহণ ব্যতীত বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। কিন্তুআজ এই খাদ্য গ্রহণেও কোন নিরাপত্তা নেই।

প্রতিনিয়ত যে খাবারগুলো আমরা গ্রহণ করে  থাকি,তা কতটা পিওর নিশ্চিত বলতে পারছি না। কারণ ফেকফুডে বাজার আজ সয়লাব হয়ে গেছে। ভেজাল আর নকলের ছড়াছড়িতে আসল পণ্য গায়েব হয়ে গেছে। ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য। আর এই ভাতই যদি হয় ভেজাল বা নকল, তাহলে আমাদের শারিরীক গঠনটা কীসের উপর হবে!!?? যখন নকল আর ভেজালই হলো আমাদের শারিরীক গঠনের ভিত্তি.. তখন দেহে অজানা,অচেনা দূরারোগ্য ব্যাধি বাসা বাঁধলে এতে আশ্চর্য হবার কিছুই নেই।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর আমদানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশইচীনের নিয়ন্ত্রণে কাউন্টারফিট প্রোডাক্ট যাকে আমরা জাল বা নকল পণ্য বলে থাকি,তার পঁচাশি ভাগেরই উৎস এই চীন।করণ চীন হলো এমন একটি দেশ যেখানে সবকিছুর নকল বা ডুপ্লিকেট পাওয়া যায়। আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন,জুতো-স্যান্ডেল থেকে নেপকিন, টুথব্রাশ থেকে মূল্যবান সব প্রসাধনী সবকিছুরই নকল মিলে এই চীনে। নকল বা প্লাস্টিক চালের আবিষ্কার ও এই চীনেরই কারসাজি।

এই চাল মূলত তৈরি হয় চীনের বিভিন্ন প্লাস্টিক কারখানায়। কী দিয়ে তৈরি করা হয় এই নকল চাল? প্লাস্টিক ও সিন্হেটিক এই চাল তৈরির প্রধান উৎস। এর সাথে ব্যবহার করা হয় আলু ও মিষ্টি আলু।প্রথমে ভারত,মিয়ানমার ও ভিয়েতনামায় এ চালের খোঁজ পাওয়া যায়।

এরপর ভারতের কোরালা,উত্তরাখন্ডের হলদিওয়ানি,অন্ধপ্রদেশ ও তেলাঙ্গানা অঞ্চলের খোলা বাজারে এ ধরনের চাল বেচা-কেনা হয় বলে খবর পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে এ চাল  আছে কিনা তা এখনো প্রশাসনিকভাবে নির্দিষ্ট না হলেও বিভিন্ন স্থানে এ প্লাস্টিক চালের সন্ধান পাওয়া যায়।

তবে বাংলাদেশে এ চাল পাওয়া যাক আর নাই পাওয়া যাক, আমাদেরকে এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে।কারণ এ চালের ভাত খাওয়া স্বাস্হ্যের জন্য মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ। এতে থাকে “ফিলেইটস” নামক এক ধরনের ক্ষতিকারক উপাদান,যা হরমোন ও
প্রজনন ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে এবং অকেজো করে দিতে পারে মানব দেহের স্বাভাবিক পরিপাক প্রণালীকেও। তাছাড়া এ চাল ভক্ষণে ক্যান্সারসহ মারাত্মক সব রোগ সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্লাস্টিক চাল ভক্ষণে আমাদেরকে  সজাগ থাকতে হবে।

এখানে প্লাস্টিক চাল ও আসল চালের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের পাঁচটি উপায় দেওয়া হল,যেগুলোর মাধ্যমে সহজেই বুঝা যাবে কোনটি আসল চাল আর কোনটি নকল চাল———

(‌‌১) এক মুঠোচাল নিয়ে তাতে দিয়াশলাই বা গ্যাসলাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে
দিন।যদি প্লাস্টিকের চাল হয়,তবে প্লাস্টিক পোড়া গন্ধ বেরুবে।

(২) চাল সেদ্ধ করে একটি বোতলে পুরে দু’তিন দিন রেখে দিন। প্লাস্টিকেরচাল হলে ঐ সেদ্ধ চালে ফাঙ্গাস আক্রমণ করবে না।

(৩) চালে গরম তেল ঢালুন অথবা কড়ায়ে তেল গরম করে কিছু চাল দিন।যদিপ্লাস্টিক হয়,তবে চাল গলে যাবে।

(৪) এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ চাল দিয়ে নাড়ুন।প্লাস্টিকের চাল হলে পানির
উপর ভাসতে থাকবে। আর আসল চাল হলে পানির নীচে চলে যাবে।

(৫) কিছু পরিমাণ চাল গুঁড়ো করে নিন।যদি চালের গুঁড়ো সাদা হয়,তবে সেটি আসল চাল।আর সাদা না হয়ে হলুদ বা অন্য কালার হলে তা নকল চাল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ