রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৩:১১ অপরাহ্ন

প্রযুক্তিতে নতুন সংযোজন: আধুনিক কিছু ডিভাইস

/ ৪১৯ পঠিত
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২০

ইলিয়াস হাসান

বর্তমান যুগ হলো আবিষ্কার-উদ্ভাবন আর জ্ঞান- বিজ্ঞানের যুগ। তথ্যপ্রযুক্তির এ-যুগে বিজ্ঞান যেন আমাদের শরীরের শিরা- উপশিরায় মিশেগেছে,ফলে বিজ্ঞান ছাড়া আমাদের জীবনযাত্রা আজ ‘পানি ছাড়া মাছ’-এর মত হয়ে গেছে। টেকনোলজির এই যুগে প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত আমাদেরকে এমন সব নতুন নতুন ডিভাইস ও আধুনিক গ্যাজেট উপহার দিয়ে চলছে, যার ফলে আমাদের জীবনযাত্রা সহজ থেকে সহজতর হতে চলেছে।

প্রযুক্তির সহায়তায় আজ আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কঠিন কাজগুলোও অতি সহজেই সম্পূর্ণ করতে পারছি। তো আজ আমরা এখানে এমনই কিছু আধুনিক ডিভাইস সম্পর্কে আলোচনা করবো, যেগুলো আপনার জীবনের গতিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

     

এটি বলতে গেলে ছোট- খাটো একটি রোবট। এনইউ এ নামের একটি প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এই স্মার্ট স্যুটকেসটি তৈরি করেছে। চারকোণ বিশিষ্ট বক্স সাইজের এই স্মার্ট স্যুটকেসটিতে আপনি আপনার জিনিসপত্র রাখতে পারবেন এবং স্থানান্তরের জন্য এটি আপনাকে বহনও করতে হবে না।

কারণ এই স্যুটকেসটি তার মালিককে অনুসরণ করে নিজে নিজেই চলতে পারে।এটিকে হ্যানজেস্টারের মাধ্যমে কন্ট্রোল করতে হয় এবং মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে ফোনের সাথে কানেক্ট করতে হয়।এতে রয়েছে একটি ক্যামেরা ও সেন্সর এবং একটি ইউএসবি পোর্ট।যেটিকে পাওয়ার ব্যাংক হিসাবে ব্যবহার করা যায।এ ছাড়া এতে আরো দুটি ইউএসবি পোর্ট, ব্লুটুথ এবং জিপিএস ট্রাকার রয়েছে।তাই এটি কোথাও হারিয়ে গেলে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। এতে একটি স্পীকারও রয়েছে,যাতে আপনি ইচ্ছা করলে সঙ্গীতও শুনতে পারেন।এই স্মার্ট স্যুটকেসটির মূল্য 3000 ডলার।
                                                     

অসর্তকতার কারণে কখনো তালার চাবি হারিয়ে গেলে ভোগান্তির শেষ থাকেনা।কিন্তু এবার আপনি নিশ্চিন্তে চাবির কথা ভুলে যেতে পারেন,কারণ এখন আর তালা খুলতে চাবিরই প্রয়োজন পড়বে না।যুক্তরাজ্যের “ফাজ ডিজাইনস” নামের একটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তৈরি করেছে ‘নোক’ নামক বিশেষ ধরনের তালা। তালাটি দেখতে সাধারণ মনে হলেও এর অসাধারণ সুবিদা হচ্ছে,এটি ব্লুটুথ প্রযুক্তি সমর্থন করে। ফলে খুলার জন্য তালার হাতলটিতে ধরা মাত্রই তালাটি ব্লুটুথের সাহায্যে মালিকের স্মার্টফোন চিহ্নিত করে  সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে।

এর জন্য পকেটে হাত রাখা বা স্মার্টফোন বের করারও প্রয়োজন পড়বে না।স্মার্টফোনের নোক অ্যাপের মাধ্যমে একাধিকজনকেও স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে এই তালা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে অনুমোদিত পরিচিতজনদের কে কখন তালা খুলেছে তাও আপনি অ্যাপ হিস্টোরি থেকে জেনে নিতে পারবেন।

দীর্ঘদিন ব্যবহার উপযোগী করতে তালাটিতে শক্তিশালী ব্যাটারী ব্যবহৃত হয়েছে।হঠাৎ কখনো স্মার্টফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে বা ফোন সঙ্গে না থাকলেও কোন সমস্যা নেই। সে ক্ষেত্রে “কুইক  ক্লিক” টেকনোলজি সুবিধা সম্পন্ন এই তালাটি হাতে টিপে বিশেষ কোডের সাহায্যেও খোলা যাবে। এ ছাড়া নিরাপদ ব্যবহারে আরো নানা ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এই তালাটিতে। ইতোমধ্যে তালাটি বাজারে চলে এসেছে। অনলাইনে ক্রয়ের জন্যও অর্ডার দেওয়া যাবে। তালাটির
মূল্য 80 ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় 6 হাজার 800 টাকা।

               

পুরুষদের জন্য মানিব্যাগ নিত্য প্রয়োজনীয় একটি বস্তু। আর এই নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু মানিব্যাগেও এবার স্মার্ট প্রযুক্তি যুক্ত করেছ ভোল্টারম্যান ইঙ্কউট” নামক একটি প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। নতুন এই মানিব্যাগটির নাম দেওয়া হয়েছে  “মিনি সেফ ওয়ালেট” বা “ভোল্টারম্যান স্মার্ট ওয়ালেট”। নতুন প্রযুক্তির এই মানিব্যাগটিতে 512 এমবি রুম,একটি বিল্ট ইন ক্যামেরা এবং ওয়াই ফাই হটস্পটের মত আরো অনেক কিছুই রয়েছে।

এতে রয়েছে বেশ কিছু আকর্ষণীয় ফিচার। এই স্মার্ট মানিব্যাগটি ফোনের চার্জিংয়ের জন্য তারবিহীন চার্জার হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। এ ক্ষেত্রে কোন ফোন যদি তারবিহীন চার্জার সাপোর্ট না করে তবে তারযুক্ত একটি চামড়ার চার্জিং প্যাডের মাধ্যমে চার্জার হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। যা পাওয়ার ব্যাংক হিসাবে কাজ করবে। মানিব্যাগটিতে আরো রয়েছে জিপিএস,ওয়াই-ফাই হটস্পট এবং আরএফআইডি সুরক্ষার ব্যবস্হা।

তাই কেউ যদি ভুলে ফোনটি কোথাও রেখে যায় তবে সঙ্গে সঙ্গে মানিব্যাগটিতে অ্যার্লাম বেজে ওঠবে। তদ্রুপ মানিব্যাগটিও কোথাও ভুলে রেখেগেলে ব্লুটুথের মাধ্যমে স্মার্টফোনে অ্যার্লাম বেজে ওঠবে।মিনি সেফ ওয়ালেট নামক এই মানিব্যাগটিতে একটি  বিল্ট-ইন ক্যামেরা রয়েছে।ফলে মানিব্যাগটি কেউ কখনো চুরি করতে চাইলে সঙ্গে সঙ্গে চোরের ছবি ভেসে ওঠবে মোবাইলের স্ক্রীনে। তাই এটি
হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হয়ে যাবার আশংকা নেই৷ আধুনিক প্রযুক্তির এই মানিব্যাগটির দাম প্যাকেজ ভেদে নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৮ ডলার, ১৫৭ ডলার এবং ৩৬৫
ডলার।

ইউনাইটেড স্টেটের ক্লিন এয়ার কাউন্সিল এর জরিপ অনুযায়ী, ইউনাইটেড স্টেটে প্রতি বছর ২১ মিলিয়ন মেট্রিক টন কাগজের ব্যবসা হয় এবং প্রতি একজন অ্যামেরিকানের জন্য গড়ে ১৭৫ পাউন্ড কাগজের প্রয়োজন হয়। তাই সচেতনভাবে কাগজ ব্যাবহারের জন্য বিভিন্ন অফিসের রিসাইক্লিং প্রোগ্রামে লেখা থাকে, “please think before you
print”.

তাই চিনের তিনজন আবিস্কারক একটি নতুন ধরণের যন্ত্র আবিস্কার করেছেন, যা কাগজগুলোকে পেন্সিলে পরিণত করবে। যন্ত্রটির একটি ছিদ্র দিয়ে কিছু কাগজ প্রবেশ করালে যন্ত্রটি একে পেঁচিয়ে একটি পেন্সিলে রূপ দিবে। যন্ত্রটিতে কিছু আঠা এবং কিছু লিড আছে। এই আঠা দিয়ে লিড পেন্সিলে যুক্ত করে অপর পাশ দিয়ে একটি সুন্দর পেন্সিল বের করবে যন্ত্রটি। এর ফলে কাগজের অপচয় রোধ হবে এবং পেন্সিল বা কলম কেনার টাকাও বাঁচবে।

ইদানিং বিজ্ঞানীরা রোবট আবিষ্কারের পিছনে ওঠে পড়ে লেগেছে।  কে কত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন রোবট তৈরি করতে পারে,কার আবিষ্কার কত মানের হবে প্রতিনিয়ত চলছে এই প্রতিযোগিতা।ফলস্বরুপ আজ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের রোবট। অফিসিয়াল কাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত কাজ সম্পাদনেও রোবট চলে এসেছে। এমনই একটি রোবটের নাম হল -ভিক্টোর রবোট । এটি ব্যক্তিগত কাজে সহায়ক ছোট্ট একটি রোবট।

এই রোবটটি আরটিভিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট বুদ্ধি সম্পন্ন অর্থাৎ এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।স্মার্ট ফোনের একটি অ্যাপ দিয়ে এই রোবটটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং এই অ্যাপের সাহায্যে রোবটটিকে পরিচালনা করে এর বিভিন্ন কার্যাবলী সমাধা করা যায়। কোন শহরের আবহাওয়ার সংবাদ দেওয়া,ছবি তোলা,বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়াসহ রোবটটি আরো অনেক কাজ করতে পারে।

কোন ইউনিট কনভার্ট করা,কোন শব্দ বা বাক্যের অর্থ বলা,বিভিন্ন সূত্র,পুষ্টিজনিত তথ্য,তারকা সম্পর্কিত তথ্য এবং খেলাধুলার খবরাখবরসহ আরো অনেক তথ্যই ইনফরমেশন করতে পারে ছোট্ট এ- রোবটটি।

এটি ক্যামেরার মাধ্যমে দেখতে পারে।সাথে থাকা মাইক্রোফোনের মাধ্যমে শুনতে পারে।এর উপরের অংশে রয়েছে একটি অনুভূতি সেন্সর।যার মাধ্যমে এটি ভাবতে পারে এবং যোগাযোগও করতেএটি ক্যামেরার মাধ্যমে দেখতে পারে।সাথে থাকা মাইক্রোফোনের মাধ্যমে শুনতে পারে।এর উপরের অংশে রয়েছে একটি অনুভূতি সেন্সর।যার মাধ্যমে এটি ভাবতে পারে এবং যোগাযোগও করতে পারে।

প্রায় সাতশটি আলাদা অংশের সমন্বয়ে এই রোবটটি তৈরি করা হয়েছে।এতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের চিপ সেট,যা একটি স্মার্ট ফোনের গতির সমমানের।

এতে রযেছে কেপাসিটি টাচ সেন্সর,তাই এটি মানুষের ছোয়ায় বিভিন্ন অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে। রোবটটিতে রয়েছে চারটি মাইক্রোফোন,যেগুলো বিভিন্ন দিক থেকে আসা শব্দ ধারণ বা কণ্ঠস্বর চিনতে কাজে লাগে।এতে রয়েছে হাই কোয়ালিটির একটি এইচডি ক্যামেরা,যা দিয়ে এটি নড়াচড়া, মানুষের চেহারা চিনা বা ঘর চিনার কাজটি করে থাকে। এতে আছে কিছু ড্রপ সেন্সর, যা ব্যবহার করে রোবটটি নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে এবং পড়ে যায় না। রোবটটির সামনের দিকে একটি আইপিএস ডিসপ্লে রয়েছে,যা দিয়ে রোবটটি বিভিন্ন তথ্য ইনফরমেশন এবং অনুভূতি সম্পন্ন কাজ করতে পারে। রোবটটি তার মালিককে চিনতে পারে এবং মালিকের দেওয়া আদেশ-নিষেধ অনুযায়ী কাজও করতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ