শিরোনাম
মসজিদে প্রবেশে সরকারের নতুন নির্দেশনা – ভারতে শাতেমে রাসূলের উচিত শিক্ষা দিয়েছেন নবী প্রেমিক দুই মুসলিম যুবক! ‘দা কাশ্মীর ফাইলস’ যেভাবে মুসলিমদের জন্য ভারতের ভূমিকে সঙ্কুচিত করে দিয়েছে ইউক্রেনে বিপণী কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় : হতাহত বেড়ে ৫০ তুরস্কে সমকামী কর্মীদের ‘প্রাইড মার্চ’ আটকাতে গ্রেফতার ২০০ ইরান-ইসরায়েল ছায়াযুদ্ধ কি সরাসরি বাস্তব যুদ্ধে রূপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার বাতিল কেন সৌদি যুবরাজের ঘনিষ্ঠ হতে উদগ্রীব এরদোগান? ইসরাইল, আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত মিলে ইসলাম বিদ্বেষীদের নতুন জোট গঠন কেনিয়ার লামু জেলা এখন সম্পূর্ণ আল-কায়েদার নিয়ন্ত্রণে
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন

মোবাইল ফোন কিনার শখ

/ ৩৮২ পঠিত
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০

রাশেদ আজম

বতর্মান যুগে মোবাইল একটা নিত্য চাওয়া। হোক সেটা প্রয়োজনে কিংবা অপ্রয়োজনে অথবা সময়ের দাবি। আবার বলা যায় হাতের শোভা। স্কুলের কথা না হয় বাদই দিলাম। কলেজে পড়াকালীন, একটা মোবাইল ছাড়া এক্কেবারে বেমানান। আর স্কিনটাচ হলে তো কথা ই নাই। ফাংশন বেশি। তাই গান শুনা, মুভি দেখা, ফেসবুক, ইউটিউব সহ নানা ধরনের কাজ করা সম্ভব। এমন একটা ফোন কে না চায়?

আমি ও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু শুধু চাইলেই কি মিলে আমাদের মতো মধ্যবৃত্ত ফ্যামিলির? এটা তো আকাশ কুসম স্বপ্ন বলা যায়! কারণ ১০০০০/১৫০০০ টাকা কম নয়। তখন আমি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এ পা রেখেছি । মনে মনে ভাবলাম নিজেকে কিছু করতে হবে । মা ও এদিকওদিক খুঁজতে লাগলো, পাশাপাশি আমি ও। কিছুদিন যাওয়া পর আমি একটা ষষ্ঠ শ্রেণির স্টুডেন্ট পেলাম। আর পড়াতে ও শুরু করলাম। প্রথম মাসে বেতন পেলাম। মাকে এনে দিলাম।

মা বললো : জমিয়ে রাখ। মোবাইল কিনিস। আমি তো আর দিতে পারিনা।
আমিও জমিয়ে রাখি। প্রাইভেট পড়াতে যেতে ২০ মিনিট লাগে তাই আর রিক্সা নেই না। বাসে একটু গিয়ে বাকিটা পায়ে হেঁটে। বেতন ২০০০টাকা। এভাবে ৪/৫ মাস গেল। হঠ্যা বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লো। হসপিটালে ভর্তি করালাম। বেশ কিছু টাকা খরচ হয়ে গেল।

চোখে কোনো পথ না দেখে জমানো টাকাকড়ি মার হাতে দিয়ে বললাম : মা! বাবার চিকিৎসা আগে। আমি বেঁচে থাকলে আবার হবে। বাবা সুস্থ হয়ে বাড়ি এলেন। এরপর আবার টাকা জমানোর পালা শুরু। এই বার বেশ কিছুদিন গেল। মোটা অংকের টাকাই জমলো। একে বারে ৭ মাসে ১৪০০০টাকা। হঠাৎ ছোট বোনটার ইন্টার ফাস্ট ইয়ার পরীক্ষা, টাকা দিতে না পারলে একটা বছর নিচে পড়ে যাবে। কি আর করার। দিতে হলো বাধ্য হয়ে।

বছর পেরিয়ে, নতুন বছরে পা রাখলো। একেই বলে মিরাকল বুঝি! আমি অষ্টম ও নবম শ্রেণির দুটো স্টুডেন্ট পেলাম। মেথ ও সাইন্স। মনে হলে তখন বিশ্ব জয় করেছি। মনের কোণে স্রষ্টার জন্য মাথা নুয়ে পড়লো কৃতজ্ঞে। মনে হলে যার কেউ নেই তার আল্লাহ আছেন। কথা টা বোধহয় চরম সত্যি। আমার মেনে নিতে কোনো দ্বিধা নেই। শুরু হলো জীবন লড়াই। আবার জমানোর পালা। এই বার অবশ্য বেশি দিন যেতে হয়নি। মাত্র ২ মাসের মাথায় ১৫০০০ টাকা হলো।

এই বার মা : যা, তোর পছন্দ মত একটা মোবাইল কিনে নিয়ে আয়। আমি বললামঃ আচ্ছা। মোবাইলের দোকানে এলাম। আমি অনেক গুলো ফোন দেখলাম। কালো আর বড় সাইজের একটা ফোন কিনলাম। ১৪৭০০ টাকা নিলো। আর একটা সুন্দর কভার ও কিনলাম। মনের আনন্দে বাড়ি এলাম।

ছোট বোন দেখে বললো : একটু দিবি? গেম খেলবো। বায়না মিটাতে কি আর করার! দিলাম। এভাবে মাস দু এক গেল।একদিন আমি টিউশানি তে যাই। ওখানে পড়ানোর ফাঁকে ঘড়ির জন্য মোবাইল খুঁজলাম। পকেটে হাত দিতেই মনটা আৎকে উঠলো। বুকটা ধুপ ধুপ করে কাঁপতে লাগলো। মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা। নিশ্বাসটাই যেন আটকে গেল। ছটফট করতে শুরু করি। মনে হচ্ছে দৌঁড়ে পালিয়ে গিয়ে খুঁজি। কিন্তু তা তো হবার নয়। এদিকে আমি চিন্তায় ঘামছি তা আর মনেই নেই। স্টুডেন্ট এর কথায় চিন্তার ছেদ পড়লো।

স্যার : আপনি তো ঘামছেন। কোন সমস্যা কি? আমি মাথা নেড়ে বুঝালাম, না কিছু না। আমি দু ঘন্টা পড়াই। আজও দু ঘন্টা হতে এখনো ১৫/২০ মিনিট বাকি। ঠিক এই সময় হঠাৎ স্টুডেন্ট এর মা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বললো: আবরার ; আজ আর পড়াতে হবে না। বাড়ি যাও শিগগির।


আমি উনার কথাগুলো শুনলাম, কিন্তু কান অবধি যেন পৌঁছালো না। আমি উনার দিকে চেয়েই রইলাম। এদিকে আমার স্টুডেন্ট আমার গা স্পর্শ করে বললো: স্যার! বাড়ি যাবেন না? আমি চমকে উঠে বললাম : কেন?স্টুডেন্ট : আম্মু বললো যেতে। আমি অবাক হয়ে বললাম ; ওহ্! হ্যাঁ হ্যাঁ। বলে বাসা থেকে বেরিয়ে জল্পনা কল্পনা করতে করতে বাড়ি এলাম। এখানে এসে চোখ কপালে উঠলো আবার। চারদিকে চেয়ে দেখলাম, পাশের বাড়ির এক আন্টি সেই মুর্হুতে এসে বললো : শিকগির হসপিটালে যাও তোমার মা ও বোন গেছে। পুরোটা শুনার আগেই দৌঁড় দিলাম। বাতাসের আগে গিয়ে পৌঁছালাম। আবরার কে দেখে তার মা এসে জড়িয়ে ধরলো। হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো।

আর বলতে লাগলো : আবরার আমাদের ফারামনি…………………… ( আর বলতে পারলো না, আবার কাঁদতে শুরু করলো)। আবরার মাকে থামাতে থামাতে বললো ; মা এত ভেবো না। সব ঠিক হয়ে যাবে। আবার মা বলে উঠলো, জানিস…বলে একটা ঢোক গিললো। আবার বলতে শুরু করলো। ফারা এক্সিডেন্ট হলো,কিন্তু বাম হাতটা লুকিয়ে রাখলো। যারা নিয়ে এলো তারা বললো। এই কথা বলতে না বলতে আইসিইউ থেকে লোক এলো। আবরার ও তার মা এগিয়ে গেলেন তাকে দেখে।

ডাক্তার : রোগীর অবস্থা বেশি ভালো না। মাথায় স্টেচ পড়েছে। বেশ ব্লিডিং হয়েছে। আর ডান পা টাও ভেঙে গেছে। সব মিলিয়ে সেরে উঠতে বেশ খানিকটা সময় লেগে যাবে। তাই রোগীর বাড়তি যত্ন লাগবে। একক্ষণই জ্ঞান ফিরবে। আপনারা রোগীর কাছে যেতে পারেন।বলে ডাক্তার চলে গেল। আবরার তার মায়ের দিকে চেয়ে বললো: মা চলো।

মা : হেরে খোকা ; সত্যিই সব ঠিক হবে তো………..! আবরার : হে……… মা! নিশ্চয় হবে। হতেই হবে। ( ভারাক্লান্ত গলায়। যেন গলাটা কাঁপছিল।) ওরা কথা বলতে বলতে রুমে প্রবেশ করলো। ঠিক তখনি জ্ঞান ফিরলো। জ্ঞান ফিরেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সিস্টার এর দিকে হাত বাড়িয়ে বললো; মেডাম দিন। আবরার আর ও মা হতভম্ব হয়ে দেখলো, আর ভাবলো ; কী দেবে? আর কী চায় ওনার কাছে……. মনে মনে এসব নিয়ে ভাবতে লাগলো।

ফারা : আবার বললো: মেডাম। এতক্ষণে সিস্টার বুঝতে পারলো। এবং একটি ব্যাগ হাতে দিলো। ফারা ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে বলল; এই নাও ভাইয়া ! তোমার “””””””মোবাইল “”””। মা দেখে কাঁদতে লাগলো। আর আবরার তো বাকরুদ্ধ!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ