রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০২:০৩ অপরাহ্ন

ঘুরে আসুন মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালি থেকে

/ ৭৯১ পঠিত
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০

আহমদুল্লাহ আশরাফ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে কার ভালো না লাগে! কর্মব্যস্ত এই জীবনে কিছু
সময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করলে  কাজের এক ঘেয়েমিটা দূর হয়ে দেহ মনে
প্রশান্তির ছোয়া লাগতে পারে। নিজেকে অনেক হালকা মনে হয়। তাই কাজের ফাঁকে সময় পেলে ঘুরে আসতে পারেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁধার, মেঘের রাজ্য “সাজেক ভ্যালি” থেকে।

সাজেক হলো পাহাড়-পর্বত, সবুজ বৃক্ষ-তরুলতা আর মেঘের রাজ্য। এখানে কখনো মেঘের আড়ালে হারিয়ে যায় পাহাড় চূড়া! দূরে দৃষ্টি ফেললেই দেখা
যায় ভারতের মিজোরাম রাজ্যের পাহাড়। এ যেন এক জাগায় দাঁড়িয়ে পুরো পৃথিবী
অবলোকন করা। এখানে কখনো খুবই গরম,একটু পরেই বৃষ্টি এবং এর কিছুক্ষণ পরেই হয়তো চারদিক ঢেকে যায় কুয়াশার চাদরে।পুরো পরিবেশটাই তখন পাল্টে যায়!  রাতে যখন দূর্ঘম পাহাড়ের এই চূড়ায় সোলারের  কল্যাণে বাতি জ্বলে উঠে, তখন সৃষ্টি হয় অসাধারণ মন ভুলানো এক দৃশ্য!!

* সাজেক কোথায় অবস্থিত *

মেঘের রাজ্য সাজেক। ভারতের সীমান্তবর্তী এই উপত্যকা ঢাকা থেকে আট-দশ ঘণ্টার দূরত্বে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। এটি খাগড়াছড়ি শহর থেকে ৬৭ কিলোমিটার উত্তর- পূর্ব এবং রাঙ্গামাটি শহর থেকে ৯৫ কিলোমিটার। উত্তর।পশ্চিমে রয়েছে।

*সাজেকে গিয়ে যা দেখবেন*

সাজেকে দেখার মত অনেক কিছুই রয়েছে। এখানে কয়েকটি উল্লেখ করা হল –
*হেলিপ্যাড-এ সূর্যাস্ত দেখা

*হেলিপ্যাড-২এ সূর্যোদয় দেখা

*রুইলুই পাড়া, মেঘমাচাং,মেঘপুঞ্জি ও জুমঘর কটেজ (না থাকলেও গিয়ে দেখে আসা
ভালো)

* সাজেক ভ্যালি রিসোর্ট (না থাকলেও গিয়ে দেখে আসলে ভালো লাগবে)

*স্টোন গার্ডেন (সাজেকে ভ্যালি রিসোর্টের পাশে,বিশ টাকা টিকেট)

*রুইলুই পাড়া থেকে সাজেক হাঁটাহাঁটি (ফুটপাতগুলো অসাধারণ)

* কংলাক পাড়া( সাজেক থেকে হেঁটে যেতে ৪৫ মিনিট লাগে, তাই ভোর বেলায় যাওয়া
ভালো।

*কংলাক পাড়ার চূড়া থেকে সূর্যোদয় দেখা।

*ঝড়ভোজ পিকনিক স্পটে যাওয়া

* হ্যালিপেডে বসে রাতের আকাশ উপভোগ করা।

*খুব ভোরে মেঘের চাদরে ঢাকা পাহাড় দেখা

*কমলক ঝর্ণা ( হেঁটে যেতে আড়াই ঘণ্টা লাগে)

*রুইলুই পাড়ার কুয়াতে গোসল করা।

*যেভাবে যাবেন*

সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় হলেও যেতে হয় খাগড়াছড়ি
হয়ে।এরপর খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক।
ঢাকা-খাগড়াছড়ি বাস ভাড়া ৫২০ টাকা,
হানিফ, শ্যামলীসহ অনেক বাস রয়েছে। এসি বাস ভাড়া- ১০০০ টাকা। ঢাকা- দিঘীনালা শুধু শান্তি পরিবহন যায়। ভাড়া-৫৮০ আর আপনি খাগড়াছড়ি নামলে সেখান থেকে দিঘীনালা বাস
ভাড়া জন প্রতি-৪৫ টাকা।

মানুষ বেশি হলে জীপে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক আসা-যাওয়া ভাড়া ৫০০০ টাকা। (দিনে দিনে চলে আসলে) এ ছাড়া খাগড়াছড়ি-সাজেক সিএনজি আসা-যাওয়া ভাড়া ৩০০০ টাকা। আর বাইকে দিঘীনালা থেকে সাজেক ভাড়া ৬০০-১২০০ টাকা। খাগড়াছড়ি থেকে
সাজেক যেতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা।

*থাকা**-**খাওয়া*

খাবার খরচ আইটেমভেদে ১০০-১৮০ এর মধ্যেই হয়ে যাবে। ভাত, ডাল, দেশি মুরগি, সবজি-১৮০ টাকা। রক ক্যান্টিনে বারবিকিউ:১ পিস মুরগি ২৫০ টাকা,পাহাড়ী হোটেলে ২০০ টাকা,পরোটা
১০ টাকা।এ ছাড়া  স্বল্পমূল্যে হরেক রকম স্বাদের বিভিন্ন ধরনের ভর্তা ও রয়েছ।

আর এখানে আপনি পেঁপে, আনারস, কমলা, কলাসহ অধিকাংশ ফলই খুব কম দামে পাবেন। পেট ও মন পুরে খেতে ভুলবেন না!   সাজেকে থাকার মত অনেক রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে।
শ্রেণীভেদে এগুলোতে থাকার ভাড়াও কমবেশি হয়ে থাকে।

এখানে আমি কয়েকটি রিসোর্ট ও কটেজের ফোন নম্বর দিয়ে দিচ্ছি, আপনি ফোনে সরাসরি যোগাযোগ করে জেনে নিতে পারবেন সবকিছু।

(১) সাজেক রিসোর্ট, যোগাযোগ ০১৮৫৯০২৫৬৯৪,০১৮৪৭০৭০৩৯৫

(২) রুন্ময় রিসোর্ট, যোগাযোগ-০১৮৬০১১৮৫২

(৩) মেঘ মাচাং, যোগাযোগ-০১৮২২১৬৮৮৭৭

(৪) জুমঘর, যোগাযোগ-০১৮৮৪২০৮০৬০

(৫) মেঘপুঞ্জি, যোগাযোগ-০১৯১১৭২২০০৭,০১৮১৫৭৬১০৬৫

(৬) লুসাই কটেজ, যোগাযোগ  ০১৮৪৪১৭২৪৯২

(৭) অবকাশ কটেজ, যোগাযোগ-০১৮৪৪১৭২৪৯২

এ ছাড়া সাজেকে স্হানীয় আদিবাসীদের বাড়িতেও আপনি থাকতে পারেন। যদি আপনার। পরিচিত কেউ থাকে, তাহলে তো ভালোই। অন্যথায় তাদের সাথে কথা বলে তাদেরকে ম্যানেজ করতে হবে।


*জরুরী কিছু পরামর্শ*

**সাজেকে আপনি অতিথি, তাই পাহাড়ীদের সংস্কৃতিতে লাগে এমন কিছু করবেন না।

*বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্পে ছবি তোলা নিষেধ।

** কংলাক পাড়া সবাই উঠতে পারে,তবে বৃষ্টি হলে সতর্ক থাকুন। এখানে আসলে
পাহাড়ী মরিচ দিয়ে জাম্বুরা ভর্তা খেতে পারেন।

**কমলক ঝর্ণায় যাওয়ার সময় ৮০/৮৫ ডিগ্রি এংগেলের খাড়া পাহাড় আছে। ট্রেকিং এর অভ্যাস না থাকলে না যাওয়াই ভালো।

**রিসাং ঝর্ণায় স্লাইড কাটার সময় সাবধান!এখানে অনেক দূর্ঘটনা ঘটে।

**অতি দুঃসাহসিকতা দেখাতে গিয়ে গ্রুপের সবাইকে বিপদে ফেলবেন না।

**সাজেকে শুধু রবি সিমের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়।
**সাজেকে ইলেকট্রিসিটি নেই,তবে জেনারেটর আছে। কোন রিসোর্টে/কটেজে থাকবেন,এর উপর নির্ভর করে আপনি জেনারেটর সুবিধা পাবেন কিনা। সাথে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যেতে পারেন, যে কোন মূহুর্তে প্রয়োজন হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ