রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৮:২০ অপরাহ্ন

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে শবে বরাত পালন করবেন যেভাবে

/ ৪৭৭ পঠিত
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০

সুলতান আহমদ

আজ ১৫ ই শাবান। পবিত্র শবে বরাত বা বরকতময় রাত্রি। আজকের রাত্রের ফজিলত সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে করোনা ভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে মসজিদগুলোতে অধিক লোকের সমবেত হয়ে জামাত আদায়কে সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ধর্মমন্ত্রণালয়। তাই আজ রাতটি অন্যান্য বছরের মত না হয়ে একটু ব্যতিক্রম হচ্ছে। এ পরিস্থিতি আমরা কিভাবে শবে বরাতে ইবাদত করতে পারি, এ সম্পর্কে নিম্নোক্ত কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে:

★ প্রথমত ইসলামে নফল ইবাদত ঘরে আদায় করা উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসেবে শুধু করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে নয় বরং সর্বদাই মসজিদের তুলনায় ঘরে নফল নামাজ,নফল ইবাদত উত্তম। তাই শবে-বরাতে নফল ইবাদতগুলো আমরা মসজিদে নয়, ঘরেই করবো। এতে রাষ্ট্রীয় বিধি-নিষেধ পালন করার পাশাপাশি আমরা উত্তম বিষয়টির উপরও আমল করতে পারছি।

★ শবে-বরাতের নফল নামাজ আদায়ের জন্য রাকাতের সীমা ও সূরা নির্ধারিত নয়, তাই যার যার খুশিমত এবং সাধ্যানুযায়ী পাঠ করবেন। অনেকেই নির্দিষ্ট সূরা বা রাকতের কথা বলে থাকে, তাদের এ কথার কোন ভিত্তি নেই।

★এ রাতে নফল ইবাদত হিসেবে নামাজ এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা অতি উত্তম। কোরআন তেলাওয়াতে সক্ষম ব্যক্তি ঘরে বসেই যত বেশি সম্ভব তেলাওয়াত করবেন। যারা কোরআনের বিভিন্ন সূরা সমন্বিত দোয়া-দুরূদ ও অজিফা পাঠে অভ্যস্ত, তারা এ রাতে এগুলো পাঠ করতে পারেন ।

★বহু প্রকারের তাসবীহ, তাহলীল, দোয়া, ইস্তেগফার, দুরূদ শরীফ এবং মোনাজাত রয়েছে, যার পক্ষে যা সুবিধাজনক ও সহজ হয় তিনি তা পাঠ করবেন । নির্দিষ্ট কোন দোয়া বা আমলের কথা হাদিসে উল্লেখ নেই যে, এটা করতে হবে। তাই প্রত্যেকে নিজের মত করে নামাজ,কোরআন তেলাওয়াত প্রভৃতি আমল করতে থাকবেন।

★ আজকাল বাংলা ভাষায় দোয়া-দুরূদ সংক্রান্ত ভালো ভালো বই-পুস্তক পাওয়া যায়। মূল আরবি এবং বাংলা উচ্চারণ ও অনুবাদসহ প্রকাশিত এসব বই-পুস্তক হতে শবে-বরাতে পাঠ করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি কিংবা ছাড়াছাড়ি যেন না হয়ে যায়–সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

★বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে সময় অধিক ব্যয় না করে এ পবিত্র রজনীতে আল্লাহর এবাদত বন্দিগীতে আত্মনিয়োগ করাই শ্রেয়। যাদের কাযা নামাজ আছে,তারা অধিক পরিমাণে নফল ইবাদতের চেয়ে কাযা নামাজের গুরুত্ব বেশি দিবে। এবং ক্বাযা নামাজ আদায় করবে।

★ এ পবিত্র ও সৌভাগ্যময় রজনী প্রত্যেক মোমেন মুসলমানের স্বীয় গোনাহ মাফ করানোর এবং ভাগ্যোন্নয়নের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে চাওয়া-পাওয়ার উপযুক্ত সময় বলে বিভিন্ন হাদিস হতে জানা যায়। সুতরাং অবহেলায় এ সময় আল্লাহর অসীম বরকত ও রহমত হতে বঞ্চিত থাকা উচিত নয়। এরূপ সৌভাগ্যময় রাত জীবনে আর নাও আসতে পারে।

★ সকল প্রকারের পাপাচার হতে রক্ষা এবং সমগ্র মানবের কল্যাণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য দোয়ার মাধ্যমে এ রাত অতিবাহিত করা এবং পরবর্তী সময়েও তা অব্যাহত রাখা উচিত।

★ আমাদের দেশে শবে-বরাত উপলক্ষে দলবদ্ধভাবে কবরস্থানগুলোতে ভিড় করার প্রবণতা রয়েছে এবং কবরস্থানগুলোর আশেপাশে বিভিন্ন প্রকারের (খাদ্যদ্রব্য, নানা প্রকারের সামগ্রী) দোকান বসে থাকে। এবারের শবে-বরাতে কবর যিয়ারতকারীরা যাতে অনুরূপ ভিড় না করতে পারে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কেননা কবরস্থানে গমনকারীদের সমাগমে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সমূহ আশঙ্কা বিদ্যমান। মনে রাখতে হবে, মৃতদের মাগফিরাত ও সোয়াবরেসানীর জন্য ঘরে বসেই দোয়া, ইস্তেগফার করা যায়। এবারের বিশেষ পরিস্থিতিতে কবরস্থানগুলোতে গমন করে পরিবেশ যেন বিনষ্ট করা না হয়, সে ব্যবস্থা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ