শিরোনাম
ভারতে শাতেমে রাসূলের উচিত শিক্ষা দিয়েছেন নবী প্রেমিক দুই মুসলিম যুবক! ‘দা কাশ্মীর ফাইলস’ যেভাবে মুসলিমদের জন্য ভারতের ভূমিকে সঙ্কুচিত করে দিয়েছে ইউক্রেনে বিপণী কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় : হতাহত বেড়ে ৫০ তুরস্কে সমকামী কর্মীদের ‘প্রাইড মার্চ’ আটকাতে গ্রেফতার ২০০ ইরান-ইসরায়েল ছায়াযুদ্ধ কি সরাসরি বাস্তব যুদ্ধে রূপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার বাতিল কেন সৌদি যুবরাজের ঘনিষ্ঠ হতে উদগ্রীব এরদোগান? ইসরাইল, আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত মিলে ইসলাম বিদ্বেষীদের নতুন জোট গঠন কেনিয়ার লামু জেলা এখন সম্পূর্ণ আল-কায়েদার নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার দখলে সেভেরোদোনেস্ক
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন

আবরার হত্যা;বিচারের বাণী যেন না কাঁদে নীরবে

/ ৭৫৫ পঠিত
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০

 সাঈদ আবরার

তোমাকে যখন লিখছি, ট্রেনটা তখন প্লাটফর্মে। হাতে আর কয়েক সেকেন্ড বাকী  মাত্র। কফিনের হাত ধরে এখনই আমাকে উঠানো হবে। মনিবের ডাক এসেগেছে, চলে যেতে হবে এখনই
 দুনিয়া ছেড়ে রাব্বে কারীমের দরবারে…..সাত আসমানের উপরে…..“।

বিশ্বাস হচ্ছে না মা তোমার?  কেন মা, বিশ্বাস যে আজ তোমাকে করতেই হবে! মেনে তো নিতেই হবে তোমাকে আজকের এ কঠিন সত্যকে!! সেদিনের কথা কি তোমার মনে আছে, যেদিন হালকা বাতাসে বিশাল গাছটি ভেঙ্গে পড়েছিল ঘরের চালে? সেদিন তুমি বশ্বাস করোনি, কিন্তু
আজ সে বিশ্বাস ভাঙ্গবে তোমার।  যখন শুনবে- “আবরার আর বেঁচে নেই মা!! “

কথাগুলো আবরারের। পৃথিবী থেকে  বিদায় নেওয়ার  পূর্বে  নিজ  মাকে  উদ্দেশ্য করে  হয়তো  এ  কথাগুলো বলছিল আবরার। আমাদের কর্ণকুহর তার সেই বেদনাময় কথাগুলো শুনতে পারেনি, তবে ধ্বনিত হয়েছে ইথারে ইথারে। প্রতিধ্বনিত হয়েছে হৃদয় থেকে
হৃদয়ে।

হ্যাঁ, আমি দেশপ্রেমিক শহীদ আবরার ফাহাদের কথাই বলছি। যাকে গত ৬ অক্টোবর ক্যাম্পাসের বড় ভাই ওরফে ছাত্রলীগের ক’জন মহানায়ক (!) রাতভর পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

একি ক্যান্টিনে খেয়ে, একি লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করে, একি ক্যাম্পাসে থেকে কী
করে সম্ভব এতো নৃশংসতা? এত জুলুম-নির্যাতন??  আহ! কী নিষ্ঠুরতা! কী বর্বরতা!! কী পাশবিকতা!!!

হায় পৃথিবী,  ধিক তোমাকে, শত ধিক তোমার এই অসভ্য, নিকৃষ্ট নাগরিকদের!!

আবরার নামাযী ছিল। ইসলাম প্রিয় ছিল। স্বদেশ প্রেমি ছিল– এই কি তার।অপরাধ?  স্বদেশের পক্ষে কথা বলাই কি তার যত অপরাধ??

একজন দেশপ্রেমিক আপন দেশের জন্য লিখবে,গাইবে,বলবে প্রয়োজনে দেশের জন্য অস্ত্র হাতে লড়াই করবে-এটাই তো স্বাভাবিক। এটাই তো  তার প্রকৃত দেশ প্রেমের প্রমাণ। এগুলো প্রতিটি দেশ প্রেমিক নাগরিকদের জন্য কর্তব্যও বটে। আর সেখানে কিনা দেশের স্বার্থে একটি লেখা হয়েগেল একজন দেশপ্রেমিক মেধাবী  তরুণের  মৃত্যুর সনদ।

হত্যার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়তেই  দিকে  দিকে জেহে ওঠে তারুণ্য। উদ্বেলিত হয় সচেতন ছাত্র সমাজ  ও তার সমবয়সী  সহপাঠীরা। উত্তাল হয়ে উঠে পুরো দেশের জনগন। সবার মুখে একটাই কথা, একটাই দাবি—এমন পাশবিকতার বিচার চাই!

রাষ্ট্রদোহীদের ফাঁসি চা “। হাজারো তালবাহানা শেষে অভিযুক্ত করা হয়েছে ২৬ জন বুয়েট ছাত্রকে। গ্রেফতারও করা হয়েছে। তাদের এবার বিচারের পালা।
আইনমন্ত্রী বলেছেন, “বিচার হবে, দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে”। আমরাও বলি তাই।

প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। রায়েই যেন শেষ না হয়ে যায়। বিচরের বাণী যেন না কাঁদে নীরবে— এটাই জাতির প্রত্যাশা।


আপনার মতামত লিখুন :

2 responses to “আবরার হত্যা;বিচারের বাণী যেন না কাঁদে নীরবে”

  1. তোমার লেখা বরাবরই ভালোলাগে তোমার লেখায় আমি আজ…..!

    • admin says:

      ধন্যবাদ!! আপনাকে আপনার মতামত ব্যাক্ত করার জন্য!!,

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ